আহম্মদ কবির,তাহিরপুর প্রতিনিধি: বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ধর্মপাশার মেঘালয়ের সিমান্তের কুলঘেষে অবস্থানরত টাংগুয়ার হাওর,যাহা একটি সংরক্ষিত পাখি ও মাছের অভয়ারণ্য নামেই পরিচিত। শীতের শুরুতেই শীতের তিব্রতা হতে নিজের জীবন রক্ষা করা ও খাদ্যের সন্ধানে,সুদুর সাইবেরিয়া চীন মঙ্গোলিয়া নেপালসহ শীত প্রধান বিভিন্ন দেশ হতে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আসে টাংগুয়ার হাওরসহ ছোট বড় বিভিন্ন হাওরে। মৌলভী হাঁস, লেঞ্জা, বালিহাঁস, সরালীসহ বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার অতিথি পাখি। পাখিদের কলধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে টাংগুয়ার হাওর, শনির হাওর, মাটিয়ান হাওরসহ উপজেলার ছোট-বড় ২৩টি হাওরে। শীতের শুরুতেই শীতের তিব্রতা হতে নিজের জীবন বাচাতে আসে টাংগুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে এখানে এসেও নিজেদের জীবন রক্ষা করতে পারছে না,রক্ষক নামের ভক্ষক ও পাখি শিকারীদের নির্মম অত্যাচারের কারনে।
স্তানিয় এলাকাবাসীর সুত্রে জানা যায়,টাংগুয়ার হাওর রক্ষক নামের ভক্ষক আনসার,নৌকারমাঝি কমিউনিটি গার্ডের সদস্যরা জেলা প্রশাসকের কড়া হুশিয়ারীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাখি শিকারীদের কাছ হতে, চাহিদা অনুযায়ি উৎকুচ নিয়ে নির্বিচারে শিকার করাচ্ছে অতিথি পাখি। আর এসমস্ত পাখি ভোর রাত্রেই চলে যাচ্ছে পাখি ব্যাবসায়িদের কাছে, ব্যাবসায়িরাও টাংগুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে আনাচে কানাচে ছরিয়ে চিটিয়ে রাত্রী যাপন করে শিকারীদের অপেক্ষায়। এবং পাখি ব্যাবসায়িরা খুব সাবধানের সাথে পাখি বিক্রি করছে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও গ্রামে গ্রামে চড়া দামে।
টাংগুয়ার হাওরপারের একাদিক স্থানিয় কৃষক জানান,পুর্বে পাখিদের কবল হতে নিজেদের ফসল রক্ষা করতে রাত জেগে পাহাড়া দিতে হত। এখন আর আমাদের রাত জেগে পাহাড়া দিতে হয়না,পাখিরাই শিকারিদের কবল হতে নিজের জীবন বাচাতে অতিষ্ট। বর্তমানে বালিহাঁস বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ৬০০টাকা করে।
লেঞ্জা হাঁস বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ৭০০টাকা করে, মৌলবীহাঁস প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৮০০টাকা।
টাংগুয়ার হাওর সহব্যাবস্থাপনা সোসাইটির উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি আব্দুস সাত্তার বলেন, পাখি শিকার হচ্ছে শুনতেছি,আজ টাংগুয়ার হাওর এরাইল্যাকুনা বিলে পাখি শিকারিরা পাখি শিকারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল,তারি সুত্রধরে টাংগুয়ার হাওর দায়িত্বরত ম্যাজিষ্ট্রেট এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে কাউকে আটক করতে পারেনি।

গোলাবাড়ি ক্যাম্পের আনসার এ পিসি মাইনুল ইসলাম বলেন, টাংগুয়ার হাওরে রাত ১২টার দিকে কিছু পাখি শিকারীদের টর্সলাইট দেখা যায়, এই সময়ে হাওরে আমরা খুব কম টহল করি, আর টহল করলেও ওদের ধরা যায়না। পাখি শিকারিদের সাথে আমাদের কোন যোগসুত্র নেই।
মেন্দিয়াতা ক্যাম্প আনসার পিসি মনিরউদ্দিন বলেন, টাংগুয়ার হাওরে পানি কম থাকায় পাখি শিকারিদের ধরা খুব মুসকিল,ওদের একটি গ্রুপ আছে যাহা মন্দিয়াতা গ্রামের বাসিন্দা ওদের একবার ধরা হয়েছিল ম্যাজিষ্ট্রেট স্যার জরিমানা করে ছেরে দিয়েছেন, আজ ম্যাজিষ্ট্রেট স্যার এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে কিছু পাখি উদ্বার করা হয়েছে, কিন্তু শিকারিদের ধরা যায়নি। ওদের সাথে আমাদের কোন যোগসুত্র নেই।
টাংগুয়ার হাওর কেন্দ্রিয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ খসরুল আলম বলেন, টাংগুয়ার হাওর দায়িত্বরত ম্যাজিষ্ট্রেট টাংগুয়ার হাওরের আসে পাশে কোন এক যায়গায় অবস্থান করলে ভালহত এবং আনসার, কমিউনিটিও রক্ষনা বেক্ষনে দায়িত্বে থাকা ব্যাক্তিরা রাত্রে টহল বাড়ালে পাখি শিকার বন্ধ করা সম্ভব হবে।
টাংগুয়ার হাওর দায়িত্বরত ম্যাজিষ্ট্রেট অঞ্জন দাস বলেন, টাংগুয়ার হাওরে পানি কমে যাওয়াতে আমরা বিভিন্ন যায়গায় সহজে যেতে পারিনা,আর পাখি শিকারিরা হচ্ছে স্থানিয় বাসিন্দা,ওরা ছোট ছোট নৌকা নিয়ে সহযেই আড়াল হয়ে যায়,তবে আজ অভিযান চালিয়ে কিছু পাখি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কিন্তু শিকারিরা পালিয়ে যায়,আমাদের এ ব্যাপারে সর্বউচ্চ চেষ্টা রয়েছে।
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:-
Sylhetnewsbd Online News Paper