সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: সিলেটে নগরীর মিরাবাজারে মা-ছেলে খুনের ঘটনায় মামলার তানিয়াসহ এ যাবত ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন মূল অভিযুক্ত তানিয়াকে সোমবার ভোর রাতে কুমিল্লার তিতাস এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই’র) একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই’র) বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করীম মল্লিক রেজা তানিয়াকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোববার রাতে সিলেট নগরী থেকে অভিযান চালিয়ে তানিয়ার স্বামীকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার তিতাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় তানিয়াকে।
তিনি আরো জানান, সোমবার দুপুর ২টা ৩০মিনিটে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই’র) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, মা-ছেলে খুনের ঘটনায় রাফি নামের আরেক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে নগরীর আম্বরখানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে আম্বরখানা বড়বাজার এলাকায় বাসিন্দা।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌসুল হোসেন তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতারের পরেএদিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে রিমাণ্ডে আনা হবে বলেন ওসি।
এরআগে গত ৩ এপ্রিল রাতে এ মামলায় নাজমুল নামে এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি পুলিশ। পরদিন ৪ এপ্রিল তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) রিমাণ্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
গত ১ এপ্রিল নগরের খারপাড়ার ‘মিতালী ১৫/জে’ নম্বর বাসা থেকে রোকেয়া বগেম (৪০) ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের (১৬) মরদেহ এবং নিহত নারীর শিশুকন্যা রাইসাকে (৫) রক্তাক্ত অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বামী নগরের বারুতখানায় উত্তরণ ৫০ নং বাসায় দ্বিতীয় স্ত্রী পান্না বেগমকে নিয়ে থাকেন। ২ এপ্রিল নিহতদের ময়না তদন্তে ওঠে আসে শরীরে ১০৮টি ধারালো অস্ত্রের কোপ। এরমধ্যে রোকেয়ার শরীরে ৭৬টি ও রোকনের দেহে ৩২টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন মিলে। পুলিশের ধারণা, পেশাদার খুনিরা ঠাণ্ডা মাথায় খুন করেছে মা ছেলেকে। একাধিক খুনি অনেক সময় নিয়ে তাদের খুন করেছে।ঘটনার দিন রাতেই দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোকেয়ার ভাই ব্যবসায়ী জাকির হোসেন অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
Sylhetnewsbd Online News Paper