কোটার শতাংশ অনেক বেশি, সংস্কার হওয়া উচিত: অর্থমন্ত্রী

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থার সংস্কার হওয়া উচিত বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

মঙ্গলবার ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের নগদ লভ্যাংশ প্রদান অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কোটাতো থাকতেই হবে, তবে কত শতাংশ থাকবে সেটা আলোচনার বিষয়। এখন কোটার শতাংশ অনেক বেশি। এটা সংস্কার হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কারে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবিগুলো হলো- কোটা সংস্কার করে ৫৬ থেকে ১০ শতাংশে কমিয়ে আনা, কোটা প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্যপদগুলোতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া, চাকরি নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার না করা, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেয়া এবং চাকরি ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন কাট মার্ক ও বয়সসীমা নির্ধারণ করা।

এ আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত রোববার দুপুরে কোটা সংস্কার দাবিতে শাহবাগে জড়ো হয়ে পদযাত্রা কর্মসূচি করে শিক্ষার্থীরা। পরে তাদের অবস্থানে রাত আটটার দিকে পুলিশ চড়াও হলে সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে এই সংঘর্ষ পুরো ক্যাম্পাস এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুলিশসহ দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। অনেককে আটক করে পুলিশ।

এরপর গতকাল সোমবারও দিনভর বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিকেলে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জাসান খাঁন কামালের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ২০ সদস্যের প্রতিনিধি বৈঠক করেন।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে তারা সরকারের আশ্বাসে আগামী ৭ মে পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। তবে তাদের এ ঘোষণা একাংশ মেনে নেননি। তারা ক্যাম্পাসে বিচ্ছিন্নভাবে বিক্ষোভ করছেন।

এখন যে কোটাব্যবস্থা বহাল রয়েছে সেখানে মেধা কোটা ৪৪ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ, নারী কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কোটা ৫ শতাংশ, ক্ষেত্রবিশেষে জেলা কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষেত্রবিশেষে প্রতিবন্ধী কোটা ১ শতাংশ।