মোঃছালাহ উদ্দিন,সিলেট নিউজ বিডি: জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রবাসের মাটিতে স্বদেশ ত্যাগ করে আসে বাংলাদেশীরা। ইউরোপের সেনজেনভুক্ত একটি দেশে বসবাস করা অনেক বাংলাদেশের স্বপ্নও বটে। ইউরোপের সবদেশেই অভিবাসী আইন দিন দিন কঠোর থেকে কঠোরতর হচ্ছে। শুধুমাত্র স্পেনে অভিবাসী আইন কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। এখানে অবৈধ থেকে বৈধ হবার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। এটি পরিপূর্ণভাবে পূরন করলেই রেসিডেন্ট কার্ড পাওয়া সম্ভব। তিন বছরের ঘরের চুক্তিপত্র থাকলে রেসিডেন্ট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবে অবৈধরা। তিন বছর বয়সী ঘরের চুক্তিপত্র কিছু লোকের মাধ্যমে কেনাবেচা হয়। বাংলাদেশীরা তাদের মূল্যবান সময় রক্ষার্থে ক্রয় করছেন এসব ঘরের চুক্তিপত্র। চুক্তিপত্র কিনে সিটি কর্পোরেশনে একটি আট ঘন্টার কাজের কন্ট্রাক,স্কুল সনদ সহ বিভিন্ন কাগজ জমা করলেই অস্থায়ী ১ বছরের স্প্যানিশ রেসিডেন্ট কার্ড পাচ্ছেন। ১বছরের রেসিডেন্ট কার্ড পুনরায় নবায়ন করতে প্রয়োজন হচ্ছে বাংলাদেশী একটি ডিজিটাল পাসপোর্ট।
২০১৭ সালের আগষ্ট মাস থেকে ২৬-০৪-২০১৮ইং তারিখ পর্যন্ত দূতাবাসের তথ্যমতে প্রায় ২৫০টি পাসপোর্ট বিভিন্ন কারনে আটকে পড়ে বাংলাদেশ পাসপোর্ট অধিদপ্তরে।
দূতাবাসের মিনিস্টার অব চ্যান্সেরি হারুন আল রশিদ জানান, বাংলাদেশ দূতাবাস মাদ্রিদ স্পেনের রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার এর নেতৃত্বে দূতাবাস টিম সর্বদা প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সদা জাগ্রত কেননা এই প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ বাংলাদেশে বৈধ ভাবে প্রেরন করে বাংলাদেশের রিজার্ভ ফান্ড বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের সকল উন্নয়নে অংশীদার হচ্ছে। ০৫-০৩-২০১৮ এর আগ পর্যন্ত যেসকল পাসপোর্ট ইতিমধ্যে আটকে পড়েছে আমরা হোম মিনিস্ট্রির সাথে এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করেছি, তাদের বার বার লিখিত চিঠি দেওয়ার পর ও তারা কোন উত্তর প্রদান করেনি।
ডিআইপি থেকে গত ০৭.০৩.১৮ তারিখে এক চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে আর কোন পরিবর্তন করা পাসপোর্ট প্রদান করা হবে না। ইতোমধ্যে যারা তথ্য পরিবর্তনের আবেদন জমা দিয়েছে তাদের কল নোটিশ দিয়ে পূর্বের তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্ট নিতে হবে।। পুর্বের তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট নিলে তাদের তো বৈধ হবার সুযোগ থাকছে না বলে পরিবর্তনকারীরা মতামত দিয়েছেন। এসব পাসপোর্ট আটকে থাকার কারনে বহু প্রবাসীদেদের রেসিডেন্স বাতিল হয়ে যাবে।
এদিকে আটকে পড়া পাসপোর্টের জন্য মানবেতর জীবন যাপন করছে প্রবাসী বাংলাদেশীরা কেননা পাসপোর্টের অভাবে তারা কোন কাজে ঢুকতে পারছে না এতে করে তাদের পরিবারও মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
উল্লেখ্য,আটকে থাকা পাসপোর্ট এর মধ্য থেকে ইতিমধ্যে ০৮ টি পাসপোর্ট অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে ছাড়িয়ে এনেছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা। তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে অতিসত্ত্বর যেন তাদের পাসপোর্ট গুলো প্রদানের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবন যাপন করার সুযোগ প্রদান করে।
Sylhetnewsbd Online News Paper