সরকারি নিশেধাজ্ঞাকে বিদ্ধাঙুলী দেখিয়ে টাংগুয়ার হাওড়ে অবাধে মা মাছ নিধন

আহম্মদ কবির,তাহিরপুর প্রতিনিধি,সিলেট নিউজ বিডি: মাছে ভাতে বাঙ্গালি প্রবাদটি প্রচলিত থাকলেও এখন ধিরে ধিরে সেই প্রবাদটি বাংগালি ভুলে যেতে শুরু করছে।দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাংগুয়ার হাওড়। যাকে সরকার সংরক্ষিত এলাকা ও মাছের অভয়ারণ্য হিসাবে ঘোষনা করেছে।যেখানে রক্ষক নামের ভক্ষকদের ন্যাক্কারজনক গঠনায় হুমকির মুখে টাংগুড় হাওড়ের জিববৈচিত্র। প্রশ্ন হল সেই সংরক্ষিত এলাকা টাংগুয়ার হাওড়ের জীববৈচিত্র সংরক্ষনের কাজটি কী শুধুই কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ।টাংগুয়ার হাওড়ে রক্ষনা বেক্ষনের দায়িত্বে থাকা আনসার নৌকার মাঝি, কিছু কিছু স্থানীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, অবৈধ জেলেদের কাছ হতে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে,নির্বিচারে জনসম্মুখে,ধরাচ্ছে মা মাছ।যাহা সরকার ঘোষিত একটি সংরক্ষিত এলাকা হিসাবেই চিহ্নিত।যেখানে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি হবে এবং দেশের বিভিন্ন যায়গায় তার বিস্তার লাভ করবে।সেখানেই নির্বিচারে মা মাছ নিধন করে মাছের বংশ ধ্বংস করছে। স্থানিয় চিহ্নিত কিছু অবৈধ মৎস্য শিকারি।বর্তমান সময়ে মাছ ধরা সরকার কর্তৃক নিশেধাজ্ঞা থাকা সত্যেও,রক্ষক নামের ভক্ষকগন নিজের পকেট ভারি করার জন্য,অবৈধ জেলেদের কাছ হতে নজরানা নিয়ে সরকারি নিশেধাজ্ঞা কে বৃদ্ধাঙুলী প্রদর্শন করে। ছাই, কারেন্টজাল,ও বান্দরিয়াজাল দ্বারা মা মাছ নিধন করাচ্ছে। যাহা একটি সংরক্ষিত এলাকার জন্য মোটেও কাম্য নয়।

সরকার টাংগুয়ার হাওড় এলাকায় অবাধে মৎস্য নিধন বন্ধ করতে,একজন এক্সিউটিব ম্যাজিষ্ট্রেটসহ একটি পুলিশ ফাড়ি ক্যাম্প, চাঁরটি আনসার ক্যাম্প, তা ছারাও একটি কমিউনিটি গার্ডের ক্যাম্প রয়েছে।টাংগুয়ার হাওড় দায়িত্বরত এক্সিউটিব ম্যাজিষ্ট্রেটসহ পুলিশের ফাড়ি ক্যাম্পটি হাওড় হতে ৩/৪মাইল দূরে ট্যাকেরঘাট খনিজ প্রকল্প রেষ্ট হাউজে অবস্থান।তার সাথেই রয়েছে পুলিশ ফাড়ি ক্যাম্প।উনার অবস্থান হতে টাংগুয়ার হাওড়ের উদ্যেশ্যে রওয়ানা করলেই,উনার সাথে থাকা নৌকার মাঝি মোবাইল ফোনে প্রতিটা আনসার ক্যাম্প ও তাদের নির্দারিত সোর্সদের ম্যাজিষ্ট্রেট আসার সংবাদ পৌছিয়ে দেয়, যার ফলে দায়িত্বরত ম্যাজিষ্ট্রেট জেলেদের মাছ ধরার অবৈধ সরঞ্জাম জব্দ করতে ব্যার্থ হয়ে আসছেন প্রতিনিহত,যারা আনসার ও নৌকার মাঝিদের উৎকোচ না দিয়ে হাওড়ে মাছ ধরতে সাহস করে তারাই মাঝে মধ্যে মাছ ধরার অবৈধ সরঞ্জাম সহ আটক হচ্ছে দায়িত্বরত ম্যাজিষ্ট্রেট এর হাতে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়,টাংগুয়ার হাওড় নজরখালী বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায়, হাওড়ে স্রোতের ভেগে পাঁনি প্রবেশ করায়।হাওড়ে অবস্থানরত মা মাছগুলো দেশের বিভিন্ন নদী হাওড় বিলে ডিম ছাড়ার জন্য স্রোতের উল্টো পথে যাত্রা শুরু করে।এবং সেখানেই অবৈধ জেলেরা বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিভিন্ন জাল ও ছাই দ্বারা মাছের চলাচলের পথ অবরোধ করে নির্বিচারে মা মাছ নিধন করছে।কিন্তু গতকাল হতে আজ পর্যন্ত উক্ত অবৈধ জেলেদের মা মাছ নিধন বন্ধ করার জন্য সরকার ও স্থানীয় সংগঠনের নেতৃ কোন ভুমিকা দেখা যাচ্ছে না।যার ফলেই পুরু এলাকাটি বর্তমানে অবৈধ জেলেদের দখলে রয়েছে।

পরিবেশ ও হাওড় উন্নয়ন সংস্থান সাধারন সম্পাদক,পিযুষ পুরকায়স্ত টিটু বলেন।পরিবেশ ও হাওড় উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ হতে,প্রশাসনের প্রতি জুর দাবী জানাই অচিরেই যেন টাংগুয়ার হাওড় সহ বিভিন্ন হাওড় নদীতে ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ নিধন বন্ধ করা হউক।যাহা হাওড়ের জিববৈচিত্র ধরে রাখা ও মাছের বংশ বৃদ্ধির সার্থে।যারা উক্ত ডিমওয়ালা মাছ ধরার সাথে সম্পৃক্ত,তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানান তিনি।