বড়লেখায় বন্যায় তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ী, অনাহারে কেটে খাওয়া মানুষ

মস্তফা উদ্দিন,সিলেট নিউজ বিডি: মৌলভীবাজারে বড়লেখা উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ঘর-বাড়ী রাস্তা-ঘাট। পানি ঢুকে পড়েছে স্কুল, মসজিদ ও বসত ঘরে। এলাকার মেহনতি কেটেখাওয়া মানুষজন অনাহারে জীবনযাপন করছেন।

দাসের বাজার,বর্নী, তালিমপুর, ও সুজানগর ইউনিয়নের গ্রামীন রাস্তায় বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় বিছিন্ন রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা, এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছে কয়য়েক হাজার মানুষ।

২২ জুন (শুক্রবার) সরেজমিনে দেখা যায়, দাসের বাজার ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের উত্তর বাগিরপার গ্রামের ২০ টি পরিবার ৮ নং ওয়ার্ডের ধর্মদেহী ৯নং ওয়ার্ডের মালিচিরি, মাইজমজুরি,নেরাকান্দি ধলিরপার ৩নং ওয়ার্ডের গোবিন্দ পুর, দক্ষিণ লগাটি, পশ্চিম শংকরপুর, ৬নং ওয়ার্ডের পুর্ব শংকরপুর গ্রামের প্রায় ১৫০ টি পরিবারের ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি। যাতায়াত করতে পারছেনা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীর। দেখাদিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্য সঙ্কট।

উত্তর বাগিরপারে শিবানী বিশ্বাসের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, আজ ৭ দিন ধরে বন্যার পানিতে ঘরডুবে গেছে রাস্তাঘাটও পানির নিচে, দিনমজুরের কাজ করে সংসার চলে চারিদিকে পানি কাম কাজ নেই। ৬ জনের পরিবার খেয়ে না খেয়ে কষ্টের মধ্য চলছে পরিবার এখনও কোন ত্রাণ পাইনি।

দিন মজুর অজয় লাল বিশ্বাসের বাড়ীতে গেলে দেখাযায়, ছোট শিশুু ও বৃদ্ধা মহিলা সহ ২৬ জনের পরিবার, ভাঙ্গা ঘরে বসবাস করছেন,উঠুনেও ঘরের ভিতরে পানি, বাড়ির সামনের রাস্তাটি ও বন্যার পানিতে নিমজ্জিত, আলাপ কালে বলেন হঠাৎ করে বন্যার পানিতে বসত ঘর রাস্তা ঘাট নিমজ্জিত হওয়া কাম কাজ নেই,২৬ জনের পরিবার কিভাবে সংসার চালাই কোন দিসা পাচ্ছিনা,এখন কোন সাহায্য সহায়তা বা ত্রাণ পাইনি।

ইউপি সদস্য কৌশিক বিশ্বাসের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, অব্যাহত ভাবে হাকালুকি হাওরের পানি বৃদ্ধির কারনে তলিয়ে গেছে এলাকার বাড়ি ঘর ও গ্রামীণ রাস্তা গুুলো। মানুষজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন, তলিয়ে গেছে ব্যাপক আউশ ধানের ক্ষেত। অসহায় হয়ে পড়েছে কেটে খাওয়া পরিবার গুুলো। অসহায়দের জন্য দ্রুত ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে।

দাসের বাজার ইউপি চেয়ারম্যান কমর উদ্দিন বলেন, বন্যাদুর্গতদের পরিবার গুলো মানবেতর জিবন যাপন করছে। বন্যায় তলিয়ে যাওয়া পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যাবস্তা গ্রহন করা হবে।