বর্ষায় হাওড় পাড়ে উত্তাল ঢেউ, বঞ্চিত প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহন

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: বর্ষা মৌসুমে তাহিরপুরের হাওর পাড়ের গ্রামগুলোর অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ গ্রহন হতে বঞ্চিত। বর্ষা মৌসুমে হাওড় অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকায়,ছোট ছোট ডিঙি নৌকো যোগে শিশু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের পাঠ গ্রহন করতে যেতে চাইলেও বাধা হয়ে দারিয়েছে সাগররুপি হাওড়ের উত্তাল ঢেউ। হাওড়ের এই বিশাল ঢেউয়ের ঝুঁকি নিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের পাঠগ্রহন করতে যেতে না পাড়ায় অনেক শিশু শিক্ষার্থী ধিরে ধিরে শিশু শ্রমে জড়িয়ে পড়ছে আবার হাওড় পাড়ের অনেক শিশুরাই জড়িয়ে পড়েছে হাওড়ে মৎস্য আহরণ করতে। যার ফলে এ উপজেলায় প্রতি
বছরেই হাওড় পাড়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের পাঠগ্রহনের অমনোযোগী হয়ে হাওড় অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমছে। এবং অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষার মধ্যেই ঝরে পড়ছে।

তাহিরপুর উপজেলায় ৭ টি ইউনিয়নে মোট ১৩১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ১১৮ টি গ্রামে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের যোগাযোগের অবস্থা কিছুটা ভাল থাকলেও, শ্রীপুর উত্তর , শ্রীপুর দক্ষিন ও দক্ষিন বড়দল ইউনিয়ন হাওর বেষ্টিত হওয়ায় বর্ষাকালে নিজ গ্রাম হতে অন্য গ্রামে যাওয়া চিন্তা করলেই প্রথমেই দেখতে হয় নৌকা ঘাটে আছে কি-না,কিন্তু দক্ষিন বড়দল ইউনিয়নের শিশু শিক্ষার্থীরা হাওড়ের উত্তাল ঢেউয়ের কবল হতে কিছুটা রক্ষা পেলেও,শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সাগর রুপি টাংগুয়ার হাওড় সংলগ্ন জয়পুর, গোলাবাড়ি, ইসলামপুর,জয়পুর নতুন হাটি, ছিলানী তাহিরপুর এই পাঁচটি গ্রামের মধ্যে একটি মাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। যেখানে অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্টান নেই এবং শ্রীয়ার গাও, মুজরাই, মন্দিয়াতা,কামালপুর মইয়াজুরী, মন্দিয়াতা নতুন হাটি এই ছয়টি গ্রামের মধ্যে একটি মাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

শিবরামপুর, মনতলা,লাউহাটি, বেতাগড়া,উজ্জ্বলপুর সহ সমস্ত এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুল পড়ুয়া শিশু দলবদ্ধভাবে লাফা,লাফি,করছে কেউ বা আবার হাওড়ে মাছ ধরতে দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা আল আমিন বলেন,আমরা হাওড় এলাকার মানুষ আমাদের পুর্ব পুরুষ পর্যন্তছিল মাছের উপড় নির্ভরশীল আমরাও বর্তমানে মাছের উপড় নির্ভরশীল, চাইছলাম আমরার প্রজন্ম কে এই নির্ভরশীলতার হাত হতে প্রজন্ম কে রক্ষা করতে, কিন্তু লেখাপড়ার ভালা ব্যাবস্থা না থাকায় এই হাওড়ের উপড় নির্ভরশীলতা হতে এদের কেউ রক্ষা করা সম্ভব না,নিজ গ্রামেও স্কুল নেই পাশের গ্রামেও স্কুল নেই,এই হাওড় বেষ্টিত এলাকায় ঢেউওয়ের ভয়ে শিশুরা অনেকদুর পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে ভয় পায়।

শ্রীয়ার গাও গ্রামের বাসিন্দা, রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আমরা হাওড় এলাকার লোক হাওড়ের উত্তাল ঢেউ পাড়ি দিয়ে শিশুদের স্কুলে পাঠাতে খুব ভয় হয়, তাই শিশুরাও ভয়ে যেতে চায় না।

শিবরামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মতিউর রজমান বলেন, আমরা হাওড় পাড়ের বসবাস করি,বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভাল না শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার বিগ্নতা গঠছে,অ ন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দির্ঘ্য এক মাস যাবৎ বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ব্যাঘাত গঠছে।

মন্দিয়াতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাঞ্জু মিয়া বলেন, হেমন্ত মৌসুমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ১০০ ভাগ ছিল কিন্তু বর্ষা মৌসুমে হাওড়ের উত্তাল ঢেউ শিশু শিক্ষার্থীদের বাধার কারণ, বর্তমানে দুরের গ্রামগুলো হতে শিক্ষার্থীরা হাওড় শান্ত হলেই আসে,যোগাযোগের ব্যাবস্থা ভাল হলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির শতভাগ হবে।