সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন উপলক্ষে সুশাসনের জন্য নাগরিক আয়োজিত ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে সিসিকের মেয়র প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। নির্বাচিত হলে তারা কি কি পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন সে সম্পর্কে উপস্থিত নাগরিকদের ধারণা দেন। এমনকি তারা সুজনের একটি অঙ্গিকারনামায় স্বাক্ষরও করেন।
লটারীর মধ্যে দিয়ে বক্তব্য পর্বে প্রথমেই সুযোগ পান ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খান। তিনি হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন আমি সিসিকের মেয়র নির্বাচিত হলে গতানুগতিক উন্নয়নের বাইরে সিসিকের প্রত্যেকটি এলাকায় মসজিদে মসজিদে আরবী শিক্ষা প্রথা চালু করবো। মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও গীর্জায় কর্মরত শিক্ষকদের জন্য সিসিক থেকে মাসোয়ারা দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। মহিলা ও শিশুদের জন্য শরীয়াহ মোতাবেক বিনোদনমূলক পার্ক তৈরী করবো।
লটারীতে এরপর বক্তব্য রাখার সুযোগ পান মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এবারের নির্বাচনে তার প্রতীক টেবিল ঘড়ি। তিনি তার নির্ধারিত সময়ের বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আয়তন বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেন। এছাড়া নির্বাচিত হলে তিনি সিলেট শহরকে মাদকমুক্ত, ফুটপাতমুক্ত, মাদকমুক্ত করবেন বলে জানান।
জুবায়েরের পর বক্তব্য রাখার সুযোগ পান নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সাবেক মেয়র ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। তিনি বলেন, রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট এগুলো সিসিকের রুটিন ওয়ার্ক। একজন মেয়রকে এইগুলো করতেই হয়, তবে একজন মেয়র হিসেবে দ্বায়িত্ব নাগরিকদের সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত নিরাপদে রাখা। তাদের চাহিদা বুঝা। আমি পুনরায় নির্বাচিত হলে সকল নাগরিকের মেয়র হবো।
এরপর লটারীতে বক্তব্য রাখার সুযোগ পান সিপিবি-বাসদ মনোনীত মই প্রতীকের প্রার্থী আবু জাফর। তিনি জানান, তিনি যদি মেয়র নির্বাচিত হন তবে সিসিকের প্রতিটি ওয়ার্ডে স্কুল নির্মাণ করবেন। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাচাতে খেলার মাঠ, পাঠাগার নির্মাণ করবেন, মহিলাদের জন্য ডে কেয়ার তৈরী করে দিবেন। বিখ্যাত ব্যাক্তিদের জীবনী তৈরী করে যুব সমাজকে তাদের অবদান সম্পর্কে অবগত করবেন।
এরপর বক্তব্য দেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এহসানুল হক তাহের। তার নির্বাচনী প্রতিক হরিণ প্রতীক। তিনি তার বকব্যে যুব সমাজকে নিয়ে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। যুব সমাজকে নিয়ে তার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানান।
এরপর বক্তব্য রাখেন বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষের আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি তার বক্তব্যে প্রথমেই নির্বাচনে কারচুপি যাতে নাহয় সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। তার সময়ে ‘আলোচিত’ নগরীর ২০১০ সালের মাস্টারপ্ল্যান অবাস্তব ঘোষিত হয়েছিল বলে জানান তিনি। তিনি জানান, তিনি মেয়র থাকাকালীন অবস্থায় যে উন্নয়ন করেছেন তা আজ দৃশ্যমান। তিনি জানান, তিনি যা স্বপ্ন দেখেন তা বাস্তবায়ন করেন।
সবশেষে বক্তব্য দিতে আসেন নাগরিক কমিটি মনোনীত প্রার্থী সিলেট মহানগর বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। তিনি বাসগাড়ী প্রতীক নিয়ে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, গতকাল আমাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। আমি কোরবানী হয়ে গেছি। তিনি জানান, তিনি যদি নির্বাচিত হন তবে সিলেট নগরীকে একটি তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তুলবেন। পুর্বের মেয়রদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নগরের প্রত্যেকটি কাজ অপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। রাস্তা থেকে ৫ফুট উচুতে ফুটপাত। এভাবে প্রত্যেকটি কাজ করা হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। তিনি পুরাতনকে ভুলে নতুনকে গ্রহণ করতে ভোটারদের প্রতি আহবান জানান।
উল্লেখ্য, সুশাসনের জন্য নাগরিক ‘সুজন’-এর আয়োজনে সকাল ১১টায় সিলেট রিকাবীবাজারস্থ মোহাম্মদ আলী জিমনেশিয়ামে সিলেট জেলা সুজনের সভাপতি ফারুক মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ‘সুজন’ এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সিটি কপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদের প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে সিলেট মহানগরের স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং নাগরিকবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। মেয়র প্রার্থীরা তাঁদের ভবিষ্যত কর্মসূচি উপস্থিত ভোটারদের সামনে তুলে ধরেন এবং নগরবাসীর বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। প্রার্থীরা পরাজিত হলে ফলাফল মেনে নেয়া এবং কর্পোরেশনের উন্নয়নে বিজয়ী প্রার্থীকে সহযোগিতা করাসহ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য উদ্যোগ গ্রহণেরও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একইভাবে উপস্থিত নাগরিকরাও সঠিকভাবে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার শপথ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক ভোটারের মধ্যে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তথ্যাবলী বিষয়ক প্রচারপত্র বিলি করা হয়।
Sylhetnewsbd Online News Paper