বড়লেখায় চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে ২ বাসায় চুরি, ৯ জন হাসপাতালে

মস্তফা উদ্দিন,সিলেট নিউজ বিডি: বড়লেখায় উপজেলার হাটবন্দ এলাকায় দুটি বাসায় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা খাবারে চেতনা নাশক দ্রব্য মিশিয়ে শিশুসহ ৯ সদস্যকে অজ্ঞান করে বাসায় চুরি করেছে।

সোমবার (১৬জুলাই)রাতে বড়লেখা পৌরশহরের হাটবন্দে হাজী আব্দুল মতিনের আবাসিক বিল্ডিংয়ে ঘটনাটি ঘটে। অজ্ঞান ৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সুত্রে জানা গেছে, পৌরশহরের হাটবন্দ এলাকায় হাজী আব্দুল মতিনের আবাসিক বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় অপসোনিন ফার্মাসিউটিকেল কোম্পানীর এরিয়া ম্যানেজার আবু শহীদ সোয়রার্দি ও তৃতীয় তলায় ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন স্বপরিবারে বসবাস করেন। সোমবার রাতের খাবার শেষে আলমগীর হোসেন, তার স্ত্রী নুসরাত জাহান লাবনী (২৭), ছেলে মাহি (৯) ও মেয়ে মেধা (৭), ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন (৩৫), স্ত্রী তাসলিমা বেগম (২৯), মেয়ে ফাহিমা বেগম (১৫), ফারিয়া বেগম (১১), তাবাসসুম (৮), লামিয়া (৬) ও ছেলে গোলাম রাব্বির (৪) মধ্যে তন্দ্রা ভাব দেখা দেয়। দুই পরিবারের শিশুরা অজ্ঞান হয়ে পড়লেও আবু শহীদ সোয়রার্দি ও ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের সামান্য চেতনা থাকায় তারা পাশের বাসায় ফোন করেন। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপপ্লেক্স ও বড়লেখা সিটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে নুসরাত জাহান লাবনী জানান, রাতের খাবারের পরই তাদের মধ্যে ঝিমুনি শুরু হয়। ২ ছেলে-মেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। প্রায় ঘন্টা খানেক বাসায় কি ঘটেছে ভালভাবে বুঝতে পারেননি। রাত সাড়ে ১২ টার দিকে দেখেন ৩ টা মোবাইল ফোন, ৪-৫ হাজার টাকা ও কিছু গহনা খুয়া গেছে। বাচ্চাদের অবস্থার অবনতি ঘটায় প্রতিবেশিদের সহযোগিতায় হাসপাতালে যান। আমরা স্বামী-স্ত্রী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ছেলে-মেয়েকে ভর্তি করি।

সিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা গেছে কেবিনে ভর্তি রয়েছেন আলমগীর হোসেন, তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম ও তাদের ৪ ছেলে-মেয়ে পুরোপুরি চেতনা পাচ্ছেন না। চিকিৎসকরা বলছেন, উচ্চ মাত্রায় চেতনা নাশক দ্রব্য থাওয়ানো হয়েছে। তাদের সুস্থ হতে সময় লাগবে।

মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতালে ভর্তি অসুস্থ ব্যক্তিদের খোঁজখবর নেন।তিনি বলেন এটি নব্য কোন অজ্ঞান পার্টির কাজ। সম্ভবত কিচেনের জানালার ফাঁক দিয়ে খাবারে চেতনা নাশক স্প্রে করেছে। ভিতরে ঢুকে চুরির চেষ্টা করেছে। একটি বাসায় কিছু জিনিস চুরি করলেও অপর বাসায় চুরিকরতে পারেনি। ঘটনাকারীদের ধরার জন্য পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

এ ব্যাপারে বড়লেখা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মুহাম্মদ সহিদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। বলেন ভিকটিমদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন চিকিৎসা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে চেতনানাশক কিছু খাদ্যের মধ্যে মিশিয়ে দিয়েছে। এটা কোন অজ্ঞান পার্টির কাজ হবে। এখনো মামলা হয়নি। প্রস্তুতি চলছে।