আহম্মদ কবির: প্রতিবন্ধী মানুষ সমাজের বোঝা বা আপদ নয়। অন্য দশটা স্বাভাবিক মানুষের মত ওরাও এই সমাজের অংশ এই আত্মপ্রত্যয় নিয়েই প্রতিবন্ধি উজ্জ্বল অন্যের দর্জির দোকানে হাতের কাজ করত করতে আজ সে নিজেই দর্জি,অর্থের অভাবে সে নিজেকে স্বাবলম্বী বলতে পারছে না। জীবনযুদ্ধ উনার নিত্যদিনের সঙ্গী । অভাব অনটন আর পঙ্গুত্বের লাটি উজ্জলের চলার পথের নিত্য সঙ্গী হলেও উজ্জ্বলের ব্যক্তিত্বের কাছে সব কিছুই তুচছ হয়ে গেছে।
প্রতিবন্ধি উজ্জ্বল প্রমাণ করেছেন, কেউ যদি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আর এজন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয় তাহলে কেউ তার পথ রুধ করতে পারে না। তাই তিনি সগর্বে বলতে পারেন, আমি প্রতবন্ধী হলেও সমাজের বুঝা নয়। (২৭) বছর বয়সী উজ্জ্বল ছোট বেলায় খেলার সাথীদের সাথে খেলতে গিয়ে তার ডান পায়ে আজ্ঞাত লাগে, অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করতে না পারায়,উজ্জলের পায়ে পচন ধরে এবং তাহা ধিরে ধিরে বাড়তে শুরু করে,অবশেষ উজ্জলের ডান পায়ের হাটুর উপড়ের অংশভাগ কেটে ফেলে উনাকে পঙ্গুত্বের কাতারে যেথে হয়, যাহা উনার ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। প্রতিবেশী এক লোকের দেয়া পঙ্গুত্বের লাটি তার একমাত্র চলার নিত্য সঙ্গী। সমাজ অথবা অন্যের বুঝা না হয়ে উজ্জ্বল ছোট একটি একটি দর্জির দোকান খুলেন এবং তাহা নিজেই পরিচালনা করেন। এতেই তিনি নিজের বৃদ্ধা গর্ভধারণী মা কে নিয়ে, খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন।
উজ্জ্বল সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর থানার ২নং দক্ষিন বংশিকুন্ডা ইউনিয়নের চাপাইতি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চাপাইতি বাজারে অন্যের দর্জির দোকানে কাজ শিখতেন, অনেকদিন কাজ করার পর উনি দর্জি কাজে অনেক দক্ষতা কাজের এক পর্যায়ে উনি এ কাজে অনেক দক্ষতা অর্জন করলেও অর্থের অভাবে পারেন নি একটি সেলাই মেশিন ক্রয় করতে।
গত দু বছর পুর্বে ২নং দক্ষিন বংশিকুন্ডা ইউনিয়নের দাতিয়াপাড়া গ্রামের কৃতি সন্তান ডি,আই,জি আব্দুল বাতেন মহুদয়ের সহোদর ভাই কাস্টম অফিসার্স আব্দুস সাত্তার সাহেব চাপাইতি বাজারে ঘুরতে এসে উনার নজরে পড়ে প্রতিবন্ধী উজ্জ্বল,উনার কাজের দক্ষতা ও আলাপচারীকার মধ্যে একটি সেলাইমেশিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন সাত্তার সাহেব,এবং দু দিন পড়েই একটি সেলাইমেশিন পাঠিয়ে দেন উজ্জলের কাছে।প্রতিবন্ধী উজ্জলের স্বপ্ন ছিল সে নিজস্ব ভাবে একটি দর্জির দোকান চালাবে
তাই মহাজন হতে অল্প টাকা ঋণ নিয়েই অভাব অনটনের মধ্যে দিয়েই ব্যাবসা চালায় দর্জির।অভাব অনটন তার এক মাত্র বাধার কারন।আজ পারেন নি উজ্জ্বল সামনে আগাতে পারছে না মহাজনের ঋন পরিশোধ করতে।
উজ্জ্বল বলেন প্রতিবন্ধী হয়ে অন্যের সাহায্যের দিকে না তাকিয়ে ব্যবসা করে পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে সুখেই দিন কাটছে। এতে আত্ম মর্যাদা নিয়ে বেঁচে আছি। এতে আত্মতৃপ্তি
অনুভব করি,উনি বলেন, প্রতিবন্ধী হয়ে সমাজের বোঝা হয়ে বাঁচতে চাই না। তাই নিজে ব্যবসা করে যা পাই তা নিয়েই আল্লাহর রহমতে ভাল আছি।
Sylhetnewsbd Online News Paper