হেলাল আহমদ,ছাতক থেকে: ‘হাওনের (শ্রাবনের) প্রত্যেকটা দিন কম-বেশি বৃষ্টি হয়েছে। হালচাষ করতে কোনো রকমের সমস্যা হয়নাই। এখন আমরা জমিতে চারা লাগাইতে শুরু করেছি। আশা করেছি ১০ কেয়ার (বিঘা) জমিতে ধান চাষ করবো। আল্লাহ চাইলে সেই ধান তুইল্যা এইবার মেয়েরটারে বিয়া দিমু।’ এমন কথাগুলো বলছিলেন ছাতকের দোলারবাজার ইউনিয়নের কৃষক ফজল মিয়া। এবার আমন মৌসুমে অধিক লাভের আশায় জমিতে ধানের চারা লাগাচ্ছেন তিনি। আরেক কৃষক হাসিম আলী বলেন, ‘আমরা কৃষি কাজ করে খাই। প্রতিবছর জমিতে চাষ করে যা পাই, খেয়ে আর বিক্রি করে তা দিয়াই সংসার চালাই। ধার-কর্জ করে এইবার ৮ কেয়ার (বিঘা) জমিতে ধানের চারা লাগাচ্ছি। দেখি এইবার আল্লায় কি রাখছে কপালে।’
শুক্রবার উপজেলার দোলারবাজার, দক্ষিণ খুরমা, ভাতগাঁও ও সিংচাপইড় ইউপির বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, বন্যা পরবর্তী শ্রাবনের শেষ সময়ে হাওর থেকে পানি নামতে শুরু করায় এখানের কৃষকরা রোপা-আমন রোপণে নেমে পড়েছেন। কোথাও কোথাও দেখা মিলেছে কৃষকদের ব্যস্ততার চিত্র। কেউবা জমি তৈরি করছেন, কেউবা বীজতলা থেকে বীজ তোলছেন, কেউবা বীজতলার বীজ পরিচর্চায় ব্যস্ত রয়েছেন, কেউবা আবার উৎসবমুখর পরিবেশে জমিতে ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত রয়েছেন।
এ বিষয়ে জমিতে ধান রোপণ করতে ব্যস্ত থাকা সিংচাপইড় ইউপির সদুখালী গ্রামের আরেক কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা ৬জনে এক কেয়ার (বিঘা) জমিতে চারা রোপন করতে নেমেছি। দুপুরের আগেই তা শেষ কইরা অন্য জমিতে রোপন করতে যাবো।’ তিনি জানান, আমন মৌসুমে শ্রাবনের প্রায় প্রত্যেকটা দিনই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। জমিতে আটকা রয়েছে যথেষ্ট পানি। যার ফলে তারা চারা লাগাতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়- এবারে আমন মৌসুমে উপজেলায় রোপা-আমান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১২হাজার হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে কৃষকরা পর্যাপ্ত বৃষ্টির পানি পাওয়ায় অনেকটা আগে ভাগেই আমন আবাদে নেমে পড়েছেন। কৃষি কর্মকর্তারা ধানের চারা রোপনের পরবর্তী সময়ে ক্ষতি থেকে রক্ষা ও অধিক ফসল উৎপাদনে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
Sylhetnewsbd Online News Paper