সাপের দংশনে মৃত ব্যাক্তিকে জীবিত করার অপচেষ্ঠা, অত:পর মৃত

মস্তফা উদ্দিন,ষ্টাফ রিপোর্টার: বড়লেখা উপজেলার দাসের বাজারে ৪ দিন পূর্বে সাপের দংশনে মৃত শিবানী রাণীর লাশ নিয়ে জীবিত করার অপচেষ্ঠা।
তদবীর ও তন্ত্রমন্ত্রে প্রাণ ফিরে পায়নি শিবানী রাণী দাস। তন্ত্রমন্ত্রকারী ওঝা উস্তার আলীর নিস্ফল চেষ্ঠায় ব্যর্থ হল। অত:পর, সেই হাসপাতালের ডাক্তার কর্তৃক মৃত ঘোষনাই সঠিক রইল।

বুধবার ০৮ আগস্ট বিকেলে বড়লেখা থেকে সাংবাদিকদের একটি দল সরেজমীন পরিদর্শন করে এরকম তথ্য পেয়েছেন।

সরেজমিনে বুধবার বিকালে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, নিহত কলেজছাত্রীর লাশ আগের মতই বাড়ির উঠানে লাল শালু কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। সময় বাড়ার সাথে সাথে লাশ ফোলতে শুরু করেছে। সোমবার রাতে ঝাড়ফুঁক শুরু করা ওঝারা ইতিমধ্যে বিদায় নিয়েছে।

মঙ্গলবার (০৭ আগস্ট) বিকেল থেকে শান্তনা বিশ্বাস নামের এক নারী নিজেকে সর্পদেবী মনসা (মনসা হলেন একজন লৌকিক হিন্দু দেবী) দাবি করেন। তিনি লাশের সৎকার না করে নদীতে ভাসিয়ে দিতে ওই পরিবারকে ভয়ভীতি দেখান। না হলে পরিবারের আরো সদস্যের বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে কথিত সর্পদেবী মনসা বলেন। এরপর থেকে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেবে কি-না সৎকার করবে (মৃতদেহ দাহ করবার কাজ) তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে শিবানী দাসের পরিবার।

নিহত শিবানী রানী দাসের কাকাতো ভাই কাতার প্রবাসী চন্দন কুমার দাস (০৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘শান্তনা বিশ্বাস নিজেকে বিষরী (সর্পদেবী মনসা) পরিচয় দেন। আমার বোনকে বাঁচানোর আশ্বাস দেন। পরে বলেছেন আর বাঁচানো যাবে না। তিনি ভেলায় করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দিতে বলেছেন। না হলে আমাদের পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। সে জন্য আমরা ভয়ে আছি। লাশ ভাসিয়ে দেব কি-না সৎকার করব এটা নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় আছি। তবে বিষরী (সর্পদেবী মনসা) আমাদের অনুমতি দিলে আমরা লাশ সৎকারে ব্যবস্থা করব।

ওই বাড়িতে কথা হয় কথিত সর্পদেবী মনসা শান্তনা বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, (শিবানীকে) আর বাঁচানো সম্ভব নয়। বাঁচাতে আমরা সব ধরনের চেষ্টা করেছি। আমি স্বপ্নে দেখেছি ওকে নদীতে ভাসিয়ে দিতে হবে। তাই ভাসিয়ে দেওয়ার জন্য বলেছিলাম। তবে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হবে কি-না বা সৎকার করা হবে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো কথা বলেননি।

৮ (আগস্ট) বুধবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশের একটি দল। অবশেষে ধর্মীয় রীতিতে সৎকারের জন্য শিবানীর পরিবার আবেদন করায় পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

নিহত শিবানীর দাদা প্রনথ চন্দ্র দাস বলেন, ডাক্তার মৃত ঘোষণার পর ওঝারা ঝাড়ফুঁকে জীবিত করার আশ্বাস দেন। গত ৪ দিনেও তারা আমার বোনের জ্ঞান ফেরাতে পারেনি।(সর্পদেবী মনসা) শান্তনা বিশ্বাস বলেছেন নদীতে ভাসিয়ে দিতে। সৎকার করলে পরিবারের নানা ক্ষতির ভীতি দেখাচ্ছেন। এ অবস্থায় ভাসিয়ে দিবো না ধর্মীয় মতে সৎকার করবো এ নিয়ে দোটানায় আছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সোহেল মাহমুদ জানান, চিকিৎসকের মৃত ঘোষিত ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁকে জীবিত করার নজির নেই। ধর্মীয় রীতি অনুসারে নিহত কলেজছাত্রীর লাশের সৎকার করতে পরিবারের সদস্যদের বলা হয়েছে।

উল্লেখ্যঃ শিবানী রানী দাস উপজেলার দাসেরবাজার ইউনিয়নের সুনামপুর গ্রামের মনোরঞ্জন দাসের মেয়ে। তিনি সিলেট এমসি কলেজের মাস্টার্সের ছাত্রী এবং স্থানীয় একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন।

জানা গেছে, রোববার রাতে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ে আহত হন শিবানী দাস। ওই রাতেই আহতাবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সোমবার (৬আগস্ট) সকাল কর্তব্যরত চিকিৎসক পরিক্ষা নিরিক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ খবর ছড়িয়ে পড়লে লোকজন ভিড় করতে থাকে ওই বাড়িতে। ভিড় সামলাতে শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে গ্রাম পুলিশ দিয়ে পাহারা দেয়া হচ্ছে।