আবারো শাহ আরফিন টিলায় এক শ্রমিকের মৃত্যু, আহত ২

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলায় পাথর উত্তোলনকালে টিলা ধসে আবারো এক পাথর শ্রমিকের মৃত্যু ও দুই শ্রমিক আহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে মৃতের সংখ্যা আরো বেশী হতে পারে বলেও জানা গেছে। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রবিবার বিকাল ৫টায় জালিয়ারপাড় গ্রামের মৃত আব্দুল আলীর ছেলে হুশিয়ার আলী, সেবুল মিয়া, ফয়জুর রহমান, আব্দুল গণির ছেলে ইসমাইল আলী, ইব্রাহিম আলী, নজরুল ইসলাম, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আপ্তাব আলী কালা, জালিয়ারপাড় গ্রামের আব্দুল আলীর ছেলে সোলেমান মিয়া, নতুন জালিয়ারপাড় গ্রামের মৃত মফিজ আলীর ছেলে সুরুজ আলী, বাবুল নগর গ্রামের মৃত আরশ আলীর ছেলে সজ্জাদ আলী, নভাগীকান্দি গ্রামের মৃত মজর আলীর ছেলে ইসবর আলীর যৌথ মালিকানাধীন পাথর কোয়ারীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পাথরখেকো হুশিয়ার আলী ও ইসমাইল আলীরা লাশ সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্র্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী ও কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পৌছালে লাশ সরিয়ে ফেলার অপচেষ্টা ব্যাহত হয় বলেও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

কোম্পানীগঞ্জ থানার নবাগত ওসি তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত আমরা এক শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। তিনি হলেন সোনাই মিয়া ওরফে সুনু (২৫)। নিহত সুনু নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুড়ি উপজেলার সাতগাঁও গ্রামের ইদ্রিছ আলীর ছেলে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী শ্রমিক নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমরা সেখানে যাই। একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আহত দুইজনের নাম ঠিকানা এখনো জানা যায়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাদের পাঠানো হয়েছে সেখানেও লোক পাঠিয়েছি। তবে তাদের পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১নং পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নে অবস্থিত শাহ্ আরফিন টিলা। পাথরখেকোরা ইতোমধ্যেই টিলার শতকরা ৭৫ ভাগ ধ্বংস করে ফেলেছে বেপরোয়াভাবে পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে। উক্ত টিলাকে বিরানভূমিতে পরিণত করেছে তারা। পাথর লুটপাটে মানছেন না উচ্চ আদালত ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞাও। পাথর উত্তোলনের কাজে শ্রমিক হয়ে যারা কাজ করছে তাদের জন্য এখন মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে উক্ত টিলাটি। কিছুদিন পরপর এখানে টিলা ধসের কারনে জীবন দিতে হচ্ছে হতদরিদ্র পাথর শ্রমিকদের। তবে অধিকাংশ সময় টিলা ধসে পাথর শ্রমিকদের মৃত্যু ঘটলেও থানায় কোনো মামলা হয় না। ব্যবস্থা নেয়া হয় না ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় পাথর উত্তোলন করানো পাথরখেকোদের বিরুদ্ধে। সমঝোতার নামে পাথরখেকোরা নামমাত্র টাকার বিনিময়ে টিলা ধসে শ্রমিক নিহতের ঘটনাগুলো ধামাচাপা দেয়া হয়ে থাকে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এর আগেও শাহ আরফিন টিলায় বেশ কয়েকবার টিলা ধসে অসংখ্য শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, প্রায় সময় কোন আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয় না শ্রমিক নিহতের ঘটনায়। এমনকি আইনী ঝামেলা এড়াতে ময়না তদন্ত ছাড়াই মৃত শ্রমিকদের লাশ দাফন করা হয়ে থাকে। আবার কখনো স্বজনদের সাথে সমঝোতা করে শ্রমিক নিহতের ঘটনা ধামাচাপা দেয়া হয়ে থাকে বলেও জনশ্র“তি রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শাহ্ আরফিন টিলা মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এখানে শ্রমিকদের জীবনের কোন মূল্য নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে এখানে আইনী ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

এর আগে গত বছর কালাইরাগ পাথর কোয়ারীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী আমজদের গর্তে ৫ শ্রমিক নিহতের ঘটনাও ঘটে। সেই পাথর শ্রমিক নিহতের ঘটনায় তিনি কারাভোগও করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত জসিম উদ্দিন জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। সম্ভব হলে রাতেই নিহত শ্রমিকের মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে। নতুবা আগামীকাল (আজ) সকালে মৃতদেহ পাঠানো হবে। এ বিষয়ে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।