মৌলভী বাজার-১ সুবিধাজনক অবস্থানে শাহাব উদ্দিন, অগোছালো বিএনপি

মস্তফা উদ্দিন,ষ্টাফ রিপোর্টারঃ শীতে তীব্রতার মধ্যে নির্বাচনের উষ্ণতায় ভাসছে দেশ। নানা জল্পনা কল্পনায় চলছে রাজনীতি মাঠে। মনোনয়ন ফরম ক্রয় করে বাদ পড়ছেন দীর্ঘদিন থেকে সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠ গরম রাখা নেতারা। মৌসুমী নেতাদেরও ঠাঁই হচ্ছে দলীয় মনোনয়নে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্টের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপি। এ দুই জোটের মধ্য ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলো সম্পৃক্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। চলছে দলীয় ও জোট প্রধানদের নিবার্চনী কলাকৌশল।

ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে দেশের অধিকাংশ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন, অনেক প্রার্থী শুরুকরেছেন গনসংযোগ সহ দলীয় নেতা কর্মীদের উজ্বিবিত করার জন্য বর্ধীত সভাসহ উঠান বৈঠক।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রাথী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন আলহাজ্ব মো. শাহাব উদ্দিন।
প্রথমে দল থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন, পরে জমা এবং যাছাই-বাছাই শেষে তিনিই আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করবেন আবারও সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য।

অপরদিকে এ আসন থেকে নির্বাচনে দুজন প্রার্থী নিয়ে বিএনপি রয়েছে দ্বিধাদন্দে,অগোছালো অবস্থায়। এবার এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন দুজন। তারা হলেন- এবাদুর রহমান চৌধুরির ও নাসির উদ্দিন মিটু।

২ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম যাচাই-বাছাই শেষে-বিএনপির প্রার্থী এবাদুর রহমান চৌধুরী মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষনা করেন। যে কারনে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে তার জন্য তিনি নিবার্চন কমিশনে আপিল করেছেন। টিকে আছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠু।

আপিলে যদি মনোনয়ন টিকে যায় এবাদুর রহমান চৌধুরির তাহলে এ আসনে নাসির উদ্দিন মিটু না এবাদুর রহমান তা নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা।

বিএনপি থেকে ঐক্যফ্রন্টের কে হচ্ছেন প্রার্থী তা কেন্দ্র করে সকল দৃষ্টি এখন কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের ওপর। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের হৃদপিন্ড ব্যারোমিটারের ন্যায় ওঠানামা করছে। দলীয় চুড়ান্ত মনোনয়ন লাভ করে কখন নিজ এলাকায় নিবার্চনি কার্যক্রম শুরু করবেন সে প্রত্যাশায় প্রহর গুনছে ভোটারসহ দলীয় প্রার্থীরা।

মনোনয়ন বঞ্চিত হলে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য পিছিয়ে পড়বে আবার অনেকের ভাগ্য খুলে যাবে মনোনয়ন প্রাপ্তিতে।

অপরদিকে নেতৃত্বের কোন্দলে অগোছালো অবস্থায় বিএনপির দ্বিধাদন্দে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামীলীগ প্রার্থী শাহাব উদ্দিন, তাই ইতিমধ্যে বড়লেখা-জুড়ীর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ শুরু করেছেন তিনি। ভোটারদের কাছে ছুটছেন ভোটের আশায়। আবার নির্বাচিত হলে এলাকায় অসম্পূর্ণ উন্নয়ন সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।তবে এ আসনে ব্যাপক উন্নয়নের কারণে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ।
ভোটারদের মধ্যে কানাকানি শুরু হয়ে গেছে। তিনিই হচ্ছেন ওই আসনের আওয়ামীলীগ ও মহাজোটের একক সংসদ সদস্য প্রার্থী ।

বিভিন্ন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শাহাব উদ্দিন অনেক ভালো মনের সদালাপি মানুষ। তিনি যে বড়লেখাও জুড়ী উপজেলায় এই দশ বছরে যে উন্নয়ন করেছেন তা আমরা কল্পনা ও করিনি,তিনির কাছে যে কোন সাধারণ মানুষ গেলে সান্তনা পেতো। স্কুল, কলেজ, রাস্তা,কালভাট,বিদ্যূৎ ও ব্রিজ সহ এলাকায় যে উন্নয়ন করেছেন তার জন্য এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে তিনি সুনাম অর্জন করেছেন। তাহার প্রতি মানুষের আস্তা রয়েছে। এমনিতেই অনেক সমাজ সেবামূলক কাজ করেন। নির্বাচিত হলে আমাদের এলাকায় আরো বেশি কাজ করবেন। আমরা চাই তিনিই আবার নির্বাচিত হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন,গত ১০ বছরে আ’লীগের প্রার্থী শাহাব উদ্দিন এর উন্নয়ন কর্মকান্ড চোখে পড়ার মতো। তিনি সাধারণ মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনার যোগ্যতা, পারদর্শীতা ও রাজনৈতিক দুরদর্শীতায় এ আসনে উন্নয়নের জোয়ার বয়ে এনেছেন। আমরা আশা করছি, জনগণ নৌকার বৈঠা আবারও তার হাতে তুলে দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করবে।