দাদা হলেন শহীদ, বাবা আসলেন ’লাল সবুজের পতাকা নিয়ে

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: ‘পাক হানাদার বাহিনী যখন আমার দাদা ও বাবাকে শৌচাগারে নিয়ে গুলি করে তখন দেয়াল ভেদ করে বুকে গুলি বিদ্ব হয়ে বাবার সামনেই শহীদ হন আমার দাদা। শৌচাগারের দূর্গন্ধের কারনে সামনে যেতে না পেরে দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে ভেবে চলে যায় পাক হানাদার বাহিনী, এরই ফাঁকে বেঁচে যান আমার পিতা, সেদিনের পর বাবা দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত বাড়ী ফিরবেনা বলে চলে যান। দেশ স্বাধীনের পর লাল সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন আমার বাবা’!
হৃদয় বিদারক কথাগুলি বলছিলেন বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়াছিনুল হক।

বড়লেখা উপজেলায় মহান বিজয় দিবসে আলোচনা সভা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসাবে বক্তৃতা প্রদানকালে তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বাবা হারিয়েছে সন্তান , স্ত্রী হারিয়েছ স্বামী, সন্তান হারিয়েছে পিতা, মা-বোন হারিয়েছে ইজ্জত, সাধারণ মানুষের উপর অন্যায় জুলুম নির্যাতনসহ অসংখ্যা মানুষকে গলা কেটে, গুলি করে, পুড়িয়ে হত্যা করেছে হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদররা। এদের হাত থেকে রেহায় পায়নি আমার পরিবারও।
বক্তৃতাকালীন সময়ে চোঁখ দিয়ে পানি পড়ছিল তাঁর। এ সময় সভাস্থলে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ওসি ইয়াসীনুল হক বলেন- এক নির্মম হত্যার স্বীকার হন আমার দাদা আব্দুল মান্নান, একই সময়ে পাক-হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পান আমার স্নেহময়ী পিতা হামিদুল হক। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের স্মৃতিচারণে করতে গিয়ে আমার বাবার দু’চোখ বেয়েও অশ্রু ঝরেছিল।
তিনি বলেন- বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন দু:সাহসী মুক্তিযোদ্ধারা। তাঁদের অসীম সাহসীকতার ফসল আজকের এই বাংলাদেশ।
পাক হানাদার বাহিনীর দুসররা এ প্রজন্মের কাছে এখনো ভুল তথ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের অপপ্রচার করছে। আমাদের নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ১৬ ডিসেম্বর রবিবার বেলা ২ ঘটিকায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদের সভাপতিত্বে ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আলতাফ হোসেন মাসুমের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারি কমিশার (ভূমি) শরীফ উদ্দিন, থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়াছিনুল হক, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান নিজ বাহাদুপুর ইউপির চেয়ারম্যান মো. ময়নুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যৈষ্ঠ সহ সভাপতি ডা. প্রণয় কুমার দে, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান, সুবেদার রিয়াজ উদ্দিন, এখলাছুর রহমান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক মুহাম্মদ শাহজাহান, সদস্য সচিব শুভাষিশ দে শুভ্র, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আব্দুস শুক্কুর, সামসুল ইসলাম রিফাত প্রমুখ।