অরক্ষিত টাংগুয়ার হাওরের ফসল রক্ষার বাঁধ, শঙ্কায় কৃষকেরা

তাহিরপুর প্রতিনিধিঃ তাহিরপুর উপজেলা পাটলাই নদীর পাশে টাংগুয়ার হাওর প্রবেশ পথ, উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রাম সংলগ্ন ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে চলতি বছরে কোনো প্রকল্প গ্রহণ না করায় অরক্ষিতই থেকে যাচ্ছে টাংগুয়ার হাওর। গত বছর টাংগুয়ার হাওর সংগঠনের তহবিল হতে নাম মাত্র বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

স্থানীয়দের তথ্যমতে জানায় টাংগুয়ার হাওর এলাকার চতুর্দিকে প্রায় ১৫০০ কৃষকের ১০০০ হেক্টর বোরো ফসলি জমি রয়েছে। চলমান বছরে কোন প্রকল্প না থাকার ফলে অতীতের ন্যায় এবারও হুমকিতেই থাকবে টাংগুয়ার হাওরপাড়ের কৃষকরা। প্রতি বছর সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়ে ওই হাওরের হাজার হাজার হেক্টর বোরো ফসলহানি ঘটে। গত বছর পাহাড়িঢলে তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও এবছর ফসল রক্ষাবাঁধ না হওয়ায় প্রায় হাজার হেক্টর বোরো- ফসলহানির শঙ্কায় রয়েছেন এখানকার হাজার হাজার কৃষক।
পাউবো সূত্রে জানা যায়,চলতি বছরে তাহিরপুর উপজেলায় ৪টি হাওরে ৬৬টি প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও পুন: নির্মাণ করা হবে। যার প্রাক্কলিত মূল্য ১৩ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা প্রায়। এ উপজেলায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে গৃহীত ৬৬টি প্রকল্পের মধ্যে ৩৬টি প্রকল্পের কাজ শুরুর প্রক্রিয়া চলছে বলে সুত্রমতে জানা যায় । অবশিষ্ট ৩০টি প্রকল্পের কাজের প্রস্তুতিও শেষের দিকে

হাওর পাড়ের বিভিন্ন কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছর এ উপজেলায় ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের নামে অপ্রয়োজনীয় অনেক বেড়িবাঁধের প্রকল্প গ্রহণ করে লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী কৃষকদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং বাঁধের প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখে এমন অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাতিলও করা হয়েছে। অথচ এবছরও টাংগুয়ার হাওরের ফসল রক্ষায় পাটলাই নদীর টাংগুয়ার হাওর নজরখালী,ও নাউটানা ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। শেষমেষ এখানে ফসল রক্ষাবাঁধ না হলে হুমকির মুখে পড়বে টাংগুয়ার হাওর এলাকাসহ বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল।

উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ইন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক ও টাংগুয়ার হাওর ইক্যু-ট্যুরিস্ট গাইড ওয়াকিল তালুকদার জানান, চলতি বছরেও টাংগুয়ার হাওরের ফসল রক্ষায় হাওর প্রবেশ পথ নজরখালি ও নাউটানা ফসল রক্ষা বাঁধের প্রকল্প না হওয়ায় কপাল পুড়বে এখানকার হাজার হাজার কৃষকদের। পাহাড়ি ঢলে অকাল বন্যায় ফসলহানি ঘটে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষয়তির সম্মুখীন সম্ভাবনায় আমরা।পরিবেশ সংরক্ষিত এই হাওরে উন্নত পদ্ধতির মাধ্যমে যদি কোন পরিবেশ বন্ধব স্থায়ী বাঁঁধ দেওয়া যায়, তাহলে হাওরের একদিকে হাওর পাড়ের হতদরিদ্র কৃষকেরা ফসল হারানোর হুমকি হতে রক্ষা পেত, অন্যদিকে বাঁধ ভেঙ্গে হাওরে মাটি জমাট হয়ে পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতিটা কম হত ।

টাংগুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ কবির বলেন টাংগুয়ার হাওর ফলস রক্ষা বাঁধটি দেওয়া জরুরী হাওরের চতুর্দিকে প্রায় হাজার হেক্টর জমি রয়েছে, বাঁধটি নির্মাণ না হলে হাওর পাড়ের কৃষকেরা ফসল হারানোর হুমকিতে থাকেন।গতবছর সাবেক কমিটি তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী ককর্মকর্তার সমন্বয়ে পর্যাপ্ত পরিমান বাজেট না থাকায় কোন রখম নির্মাণ করেছিলেন সম্পুর্ণ ভাবে বাঁঁধটি নির্মান না করায় একপর্যায়ে বাঁধটি ভেঙ্গে যায় তবে ফসলের কোন ক্ষতি হয়নি,তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবী উন্নত কোন প্রযুক্তির মাধ্যমে বাঁধটি নির্মাণ করার