বিশেষ প্রতিনিধি:
গোয়াইঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের দরিদ্র তজম্মুল আলীর বসতবাড়ির জায়গা দখল করে নিয়েছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এছাড়াও পারিবারিক ভাবে নির্যাতন এবং হয়রানি করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের দরিদ্রতার সুযোগ পেয়ে সামাজচ্যুত করা হয়েছে। এবং তাদের পরিবারের লোকদের যত্রতত্র মারধর করে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পায়তারা চলছে। জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একাধিক মামলা মোকদ্দমা হলেও প্রশাসন থেকে কোন সুফল পাচ্ছেনা অসহায় পরিবার।
জানাযায়, হাজী আমির উদ্দিন এবং তজম্মুল আলী একই গোষ্টির লোক। দীর্ঘ দিন থেকে তাদের বসত ভিটা নিয়ে নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। তজম্মুল আলী গংরা অসহায় এবং দরিদ্র থাকার ধরুন হাজী আমির উদ্দিন গংরা জোর পূর্বক তাদের বসত বাড়ির ৯৯৬/৯৯৭/৯৯৮ নং দাগের মোট ৫৩ শতক জায়গা জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে।
প্রথম দিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় শালিশানদের কাছে গেলে কোন সমাধান না পেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন তজম্মুল আলীর ছেলে হাফিজ মোশাহিদ আলী । সমাধান না পেয়ে বাদি আশ্রয় নেন সিলেট পুলিশ সুপারের। গত ০৪ আগস্ট ২০১৮ ইং সিলেটের পুলিশ সুপার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্বভার পড়ে গোয়াইঘাট থানা কর্মকর্তার হাতে। কিন্তু বিষয়টি শুরাহার তাগিদ গেলে শেষ পর্যন্ত নিষ্পত্তি না হয়ে , প্রতিপক্ষ উল্টো ক্ষীপ্ত হয়ে নিয়মিত ভাবে নির্যাতন নীপিড়ন চালিয়ে যাচ্ছে অসহায় পরিবারের প্রতি।
এ ব্যাপারে হাফিজ মোশাহিদ আলী জানান , আইনের আশ্রয় নিয়ে বিষয়টির কোন নিষ্পত্তি হচ্ছেনা বরং বাড়িতে বসবাস কারী মহিলা এবং শিশুদেরকেও তারা মারধর করছে।এছাড়াও বাড়ির বাসিন্দা যারা তাদেরকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং যাকে কোথাও দেখতে পাবে তাকে প্রানে মারারও হুমকি দিচ্ছে।
সর্বশেষ মোশাহিদ আলীর ভাগনা জামাল হোসেন তাদের বাড়িতে বেড়াতে গেলে তাকে অপহরণ করে নেয় হাজী আমির উদ্দিনের লোকেরা। পরে তাদের উদ্ধার করতে গেলে প্রতিপক্ষ মারধর করে। আহতরা সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে জামাল হোসেন বাদি হয়ে সিলেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।গোয়াইনঘাট সিআর মামলা নং ৩১ /২০১৯ ইং।
এ ব্যাপারে দরিদ্র তজম্মুল আলী জানান , আমি নিতান্ত অসহায় একজন মানুষ । ছেলে সস্তান নিয়ে ভালো ভাবে বেচে থাকতে পারছিনা প্রভাবশালীদের কারনে । তারা শুধু জায়গা দখল করে ক্ষান্ত হচ্ছেনা প্রানে মারার জন্যে হুমকি দিচ্ছে। তাই আমরা সবাই বাড়ি থেকে প্রানের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। প্রশাসনিক ভাবে যদি আমাদের সাহায্যে না করা হয় তাহলে বেচে থাকা খুব কষ্টকর হয়ে পড়বে।
Sylhetnewsbd Online News Paper