সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ নগর ভবন নির্মাণে ঠিকাদারের জামানতের টাকা আত্মসাৎসহ দুর্নীতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, নগরীর উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি কুচক্রীমহল আমার ও আমার পরিষদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসময় অপপ্রচার রোধে সবার আন্তরিক সহযোগিতার পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতা চান তিনি।
মঙ্গলবার সকালে প্রদীপ্ত সিলেটের ব্যানারে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের আয়োজিত মানববন্ধনে ব্যবসায়ী সঞ্জয় রায় আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। মানববন্ধনে তিনি কাফনের কাপড় ও ফুলের মালা পড়ে প্রতীকী আত্মাহূতি করেন দূর্নীতির শিকার ব্যবসায়ী সঞ্জয় রায়। এর আগে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন তিনি।
মানববন্ধনে তিনি দাবি করেন, ‘২০১৪ সালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে নগর ভবন নির্মাণের জন্য একটি ওয়ার্ক অর্ডার হয়। উক্ত ওয়ার্ক ওয়ার্ডারটি ষোল কোটি আট লক্ষ টাকা মূল্যে মাহবুব ব্রার্দাসকে প্রাঃ লিঃ প্রদান করা হয়। মাহবুব ব্রাদার্স কাজটি সম্পাদনের জন্য ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর তার মালিকানাধীন সম্পা-তপা এন্টারপ্রাইজের সাথে চুক্তি করে।’

তিনি জানান, কাজ শুরুর পর থেকে তিনি নিয়মত কাজ করার পাশাপাশি বিল ইস্যু করে চেকের মাধ্যমে লেনদেন করছিলেণ। কিন্তু কাজের মাত্র ৫ শতাংশ বাকী থাকতে আমি চিকিৎসার জন্য ভারতে চলে যাই। এসময় আরিফুল হক চৌধুরী মাহবুব ব্রাদার্সকে জিম্মি করে ২ কোটি ছেষট্টি লক্ষ টাকা আমাকে অগোচরে রেখে আত্মসাৎ করেন। ঘটনার ২ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর কাজের জন্য রক্ষিত জামানতের ১ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা মেয়র আরিফ ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনি তার সহযোগী তোফায়েল খানের একটি ব্যাংক একাউন্টে নিয়ে আসেন। জামানতের এই চেকের ঘটনার স্বাক্ষী হিসেবে তিনি ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছয়ফুল আমিন বাকের উপস্থিত ছিলেন। প্রাণের ভয়ে তিনি এতদিন বিষয়টি কাওকে বলেননি বলেও মানববন্ধনে দাবি করেন।’
এ মানবন্ধনের প্রেক্ষিতে বিকেলে নগর ভবনে জরুরী সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থানের কথা তুলে ধরেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সঞ্জয় রায় সিসিকের তালিকাভুক্ত কোন ঠিকাদার নয়। তাই তার এ দাবি অবাস্তব এবং মিথ্যা। এছাড়া নগর ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্স কাজ শেষ হওয়ার পর তাদের সকল পাওনাসহ সরকারি বিধি অনুসারে জামানতের টাকাও নিয়ে গেছে। এ প্রতিষ্ঠানের কেউ মানববন্ধনে ছিলেন না। তাদের সাথেও সিসিকের কোন লেনদেন নেই।’
নগরীর উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে কুচক্রীমহল আমার ও আমার পরিষদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে দাবি করে মেয়র অপপ্রচার রোধে সবার আন্তরিক সহযোগিতার পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগিতা চান।
সংবাদ সম্মেলনে সিসিকের কাউন্সিলর সৈয়দ তৌফিক বক্স লিপন, এবিএম জিল্লুর রহমান উজ্জল, ফরহাদ চৌধুরী শামীম, রেজওয়ান আহমদ, সয়ফুল আমিন বাকের, মোস্তাক আহমদ, সিকন্দর আলী, রকিবুল ইসলাম ঝলক, তারেক উদ্দিন তাজ, আব্দুল মুহিত জাবেদ, ইলিয়াসুর রহমান, মোকাব্বিরুল ইসলাম পিন্টু, সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, এসএম শওকত আমীন তাওহিদ, আবুল কালাম আজাদ লায়েক, রাশেদ আহমদসহ সিসিকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Sylhetnewsbd Online News Paper