সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ ১১ বছর থেকে নির্বাচন হচ্ছে না রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদের। এর মধ্যে দুটি ইউনিয়ন পরিষদ চলছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিয়ে। এতে করে একদিকে যেমন উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অপর দিকে নাগরিক সুবিধাসহ নানা ভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার জনগণ।
জানা গেছে, বাঘা পৌরসভা দ্বিতীয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় চারটি ইউনিয়নের আংশিক এলাকা পৌরসভার মধ্যে সম্পৃক্ত করেন সাবেক মেয়র আক্কাস আলী। এর ফলে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার অভিযোগ এনে মনিগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মরহুম আকবর হোসেন, সাবেক গড়গড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মরহুম আবদুল গনি মণ্ডল, পাকুড়িয়া চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল হক ফিটু এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। এ কারণে হাইকোর্ট উপজেলার বাজুবাঘা, গড়গড়ি, পাকুড়িয়া, মনিগ্রাম এই চার ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন।
সংশ্লিষ্ঠ সূত্র জানায়, ২০০৩ সালে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪ ফেব্রুয়ারি চারটি ইউনিয়নের নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হয়। তবে ২০১১ সালের ২ জুলাই এ চারটি ইউনিয়নের নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করা হলে পরে তা রহস্যজনক কারণে স্থগিত হয়ে যায়।
এদিকে এই চারটি ইউনিয়নের মধ্যে মনিগ্রাম ও বাজুবাঘা ইউনিয়ন চলছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিয়ে। কারণ এই দুই পরিষদের চেয়ারম্যান ইতিমধ্যে মারা গেছেন। এছাড়া একটি ইউনিয়নের একজন ওয়ার্ড সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
বাঘা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম মোল্লা বলেন, নির্বাচনের মেয়াদ ১১ বছর পার হতে চলেছে। নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকলে উন্নয়ন ব্যাহত হয়। বর্তমানে সেটিই হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি ভাবে নানা বরাদ্দ কিংবা ভাতা (অনুদান) পেতে এখন গরিব-দুঃখীদের টাকা গুনতে হচ্ছে মেম্বর-চেয়ারম্যানদের। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুজিবুল আলম জানান, এই মুহূর্তে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আর কোনো আইনি জটিলতা নেই। বর্তমানে চার ইউনিয়নের ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাম যাছাই বাছাইয়ের কাজ চলছে। যাচাই বাছাই শেষে নির্বাচন অফিসে প্রতিবেদন দাখিল করলে ভোটের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, বাজুবাঘা, গড়গড়ি, পাকুড়িয়া, মনিগ্রাম চারটি ইউনিয়নের নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। আশা করছি শীঘ্রই নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা করা হবে।
Sylhetnewsbd Online News Paper