নিজস্ব প্রতিবেদক: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দাসের বাজার ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিনকে উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর কর্তৃক লাঞ্ছিতের জের ধরে বিক্ষোভের ঘটনায় এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ জুন) দুপুর দুইটার দিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এব্যায়াপারে সমাধানের লক্ষে এ বৈঠক অনুষ্টিত হয়।
এ বৈঠকে মুঠোফোনে বক্তব্য দিয়েছেন পরিবেশ মন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ মো. শাহাব উদ্দিন। বক্তব্যে তিনি বলেন, আপনারা সবাই ধৈয্য ধরুন। আমি আগামি সপ্তাহে এলাকায় আসব, আপনারা মুরব্বিয়ানদের নিয়ে বিষয়টি সুষ্ট সামাধান করবো। এসময় তিনি এরকম পরিস্থিতি আর যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।
বৈঠকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান, থানার ওসি ইয়াছিনুল হক, পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার উদ্দিনসহ চারটি ইউনিয়নের প্রবীণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৯ জুন) সকালে বড়লেখা উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে কুশল বিনিময়কে কেন্দ্র করে বড়লেখা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর ও সাবেক দাসেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিনকে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন। এতে মাহতাব উদ্দিন পায়ে ও হাতে আঘাত পান। পরে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিনুল হক ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)। এ ঘটনায় মাহতাব উদ্দিন সুন্দরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিন লাঞ্ছিতের ও মারধরের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি দাসের বাজার, তালিমপুর, বর্ণি ও নিজবাহাদুরপুরের ইউনিয়নের লোকজনের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় ওই চারটি ইউনিয়নের প্রায় সহশ্রাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্রসহ মিছিল সহকারে বড়লেখা শহরের দিকে রওয়না দেন। এই খবর পেয়ে পুলিশ, নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য লোকজন তালিমপুর এলাকায় গিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের আটকানো সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে বড়লেখা পৌরশহরের উত্তর চৌমুহনী এলাকায় পুলিশ পুনরায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় ব্যরিকেড সৃষ্টি করে তাদের আটকায়। সেখানে তারা অবস্থান নিয়ে বড়লেখা-কুলাউড়া আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রফিকুল ইসলাম সুন্দরকে ২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তাদের ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়ে অবরোধ তুলে নেওয়ার আহবান জানিয়ে বক্তব্য দেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার উদ্দিন, পৌর মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, পৌর কাউন্সিলর আব্দুল মালিক জুনু প্রমুখ।
অন্যদিকে অবরোধকারীদের পক্ষে বক্তব্য দেন দাসেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কমর উদ্দিন, সুড়িকান্দি গ্রামের মুরব্বি মুছব্বির আলী ও নজব উদ্দিন, যুব নেতা ফাহিম আহমদ তালিমপুর ইউনিয়নের সুনাম উদ্দিন সুনাই বন্ধু, ফয়ছল আহমদ, বর্ণি ইউনিয়নের হেলাল উদ্দিন, নিজবাহাদুর ইউনিয়নের খয়রুল ইসলাম নুনু প্রমুখ। বক্তব্য শেষে তারা অবরোধ তুলে নেন। পরে এই বিষয়ে দুপুর দুইটার দিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জরুরী বৈঠক ডাকা হয়।
এ ব্যাপারে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুন্দর বলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিনের সাথে উপজেলায় দেখা হলে তিনি আমার সাথে হাত মেলাতে চেয়েছিলেন। আমি বলেছি আপনার সাথে হাত মেলানোর রুচি নেই আমার। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। গায়ে হাত তোলার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। চার ইউনিয়নের মুরব্বিদের নিয়ে বসা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউএনও মহোদয় ছিলেন। মন্ত্রী মহোদয়ের সাথেও আলাপ হয়েছে। তিনি এলাকায় আসলে বিষয়টি সমাজিকভাবে সমাধান হবে। এতে সবাই একমত হয়েছেন।
Sylhetnewsbd Online News Paper