নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ইদানিং উঠে আসছে দেশীয় ব্র্যান্ড গুলোর নানা ধরনের প্রতারনার কাহিনী। কিছুদিন আগে আড়ংকে চার লক্ষ টাকা জরিমানা করে ভোক্তা অধিদপ্তর। একই ধরনের কাপড়ে দুটি ভিন্ন দাম থাকার কারনে এই জরিমানা গোনে আড়ং। বাংলাদেশের বাজারে দারুন ব্র্যান্ড ভ্যালু থাকার পরেও রক্ষা পায়নি তারা। এবার ভিন্ন ধরনের একটি অভিযোগ এসেছে আরেকটি কাপড়ের দোকান ঘিরে। সিলেট আম্বরখানাস্থ সিগন্যাল শপের বিরুদ্ধে এসেছে প্রতারনার অভিযোগ। এক ধোয়াতেই রঙ উঠলো সিগন্যালের ১৫৯০ টাকার শার্টে! নিম্ন মানের শার্ট উচ্চমুল্যে বিক্রি এবং এর প্রতিকার চাইতে গেলে ক্রেতার সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এসেছে তাদের বিরুদ্ধে।

সিলেট দরগাগেইটের বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি ঈদের আগে ১৫৯০ টাকা দিয়ে একটি ফুল হাতা শার্ট কেনেন আম্বরখানা সিগন্যাল থেকে। ঈদের পর প্রথম ধোয়াতেই কাপড় থেকে বেশুমার রঙ যাওয়া দেখে তিনি শার্ট সহ সিগন্যালে এসে অভিযোগ জানান। কিন্তু তার অভিযোগ আমলে নেন নি ওই শাখার কর্মরতরা। তারা আত্নবিশ্বাসের সাথে বলেন তাদের শার্ট থেকে রঙ যাওয়ার প্রশ্নই আসেনা, কারন তারা বাংলা ফ্যাব্রিক্স ব্যবহার করেন না, তারা ব্যবহার করেন চায়না ফ্যাব্রিক্স। তারা ওই ক্রেতাকে বলেন হয়তো অন্য কোন কাপড় থেকেই রং গিয়েছে আপনি মনে করছেন আমাদের শার্ট থেকে রঙ যাচ্ছে, ভাল করে দেখে অভিযোগ করতে আসবেন।
আলোচনার এক পর্যায়ে শার্টের ক্রেতা মোবাইল ফোনের লাউড স্পিকারে বাসায় তার মায়ের সাথে কথা বলেন। তার মা জানান নতুন শার্ট থেকেই রঙ গিয়েছে। কিন্তু তাতেও বিশ্বাস করছিলেন না সিগন্যাল কর্তৃপক্ষ। এর আগে ক্রেতাকে তারা আর রঙ গেলে শার্ট বদলে দেওয়ার কথা বললেও পরে সে কথা থেকে সরে আসেন। শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে বাক বিতন্ডা।

এক পর্যায়ে সিগন্যালের একজন কর্মচারী মোবাইলে তার মালিকের সাথে কথা বললে তিনিও শার্ট থেকে রঙ যাওয়ার বিষয়টি পাত্তা না দিয়ে বলেন-এরকম অনেক টাউট বাটপার আসে, ওনাদের প্রমান দেখাতে বলুন। এ কথা শুনে কর্মচারীরা ক্রেতাকে রঙ যাওয়ার প্রমান আনতে বলেন। ক্রেতা রঙ যাওয়া দেখানোর জন্য দোকানে পানি চাইলে তারা জানান তাদের এখান থেকে পানি দেওয়া যাবেনা। তারা ক্রেতাকে বাসা থেকে বালতি ও পানি আনতে বাধ্য করেন। অবশ্য পানি ও বালতি আনার পর পালটে যায় দৃশ্যপট। বালতি এনে তার মধ্যে শার্ট পানিতে ভেজালে দেখা যায় শার্ট থেকে বেশুমার রঙ যাচ্ছে। অথচ এর আগে সিগন্যাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করছিলেননা যে তাদের শার্ট থেকে রঙ যেতে পারে। তবে চোখের সামনেই প্রমান দেখার পর তারা চুপসে যান। এ সময় নানা প্রলোভনে বিষয়টি কাঊকে না জানাতে ওই ক্রেতাকে অনুরোধ করা শুরু করেন তারা। তবে এত দামে শার্ট কিনে ক্রেতা হিসেবে নুন্যতম সম্মান না পাওয়াতে এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকারে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ওই ক্রেতা।

এ ব্যাপারে জানতে সিগন্যাল শপ আম্বরখানার মোবাইল নাম্বারে কয়েকবার কল করা হলেও কেউ রিসিভ করেননি। কয়েকজন কাপড় ব্যবসায়ীর সাথে এ ব্যাপারে আলাপ করে জানা যায় সিগন্যাল আদতে কোন ব্র্যান্ড নয়, এই নামে দেশে অনেকগুলো কাপড়ের দোকান রয়েছে তাদের। তাদের ডিজাইন কিছুটা ভাল হলেও প্রথম থেকেই তাদের কোয়ালিটি নিয়ে আছে এন্তার অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্রেতা বলেন ‘মুলত চট্টগ্রামের কিছু কাপড় ব্যবসায়ী সিলেটের মোড়ে মোড়ে ব্র্যান্ডের নামে প্রতারনার ফাঁদ খুলে বসেছেন। সিলেটি মানুষদের রুচিশীলতা ও বিত্তকে পুজি করে তারা বংগ বাজারের কাপড় এনে সিলেটে ব্যবসা করছে। না হলে প্রায় ষোলশত টাকা দামের একটা শার্ট থেকে কেন প্রথম ধোয়াতেই রঙ যাবে? নিশ্চয়ই তাদের কাপড় নিম্নমানের। প্রশাসন ও ভোক্তা অধিদপ্তর হানা দিলেই এদের গোঁমর ফাঁস হয়ে যাবে’।

Sylhetnewsbd Online News Paper