মস্তফা উদ্দিন: মৌলভী বাজারের বড়লেখা উপজেলায় প্রতারক ওয়াহিদ শাকিল বাবলু (২২) নিজের কন্ঠ পরিবর্তনের যোগ্যতাকে পুঁজি করে মেয়েলি কন্ঠে কথাবলে অনেকের কাছথেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাহেনা বেগম হাছনার কন্ঠ নকলকরে আবার কখনও তার ছেলে পরিচয়ে বিভিন্ন সহজ সরল মানুষের সাথে প্রতারণা করে। এমন কি এলাকার অনেক মেয়েদের পরিচয় দিয়ে ছেলেদের প্রেমের ফাঁদে ফেলেও হাতিয়ে নিয়েছে টাকা।
প্রতারক ওয়াহিদ শাকিল বাবলু বড়লেখা পৌরশহরের হাটবন্দ এলাকার বাজিদ আলীর ছেলে।
কয়েকজন পুলিশ সদস্যও তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অবেশেষে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাহেনা বেগম হাছনার লিখিত অভিযোগে রোববার রাতে পুলিশ তাকে আটক করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জনের সাথে প্রতারণা চালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে পুলিশের কাছে। তার কাছ থেকে পুলিশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর টাকা উদ্ধার করে দিয়েছে। প্রতারণা করে হাতিয়ে নেয়া টাকা ফেরৎ দেয়ার শর্তে সোমবার মূচলেখায় পুলিশ তাকে মুক্তি দিয়েছে।
পুলিশ ও অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ওয়াহিদ শাকিল বাবলু, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশসহ বিভিন্ন মহলে নিজেকে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাহেনা বেগম হাছনার ছেলে পরিচয় দিয়ে আসছিল।কখনও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেজে মেয়েলি কন্ঠে ফোন করে বিভিন্ন মানুষকে সেলাই মেশিন, ডিপ টিউবওয়েল, শ্যালো টিউবওয়েল, সৌরবিদুৎ, সরকারী বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ঋন দেয়ার জন্য উৎকোচ আদায় করতো।
কখনও জনপ্রতিনিধিদের ভাগনি/ভাতিজি সেজে ফোনে অনেককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নানা অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নিত। উপজেলার কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধি তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। লোকলজ্জায় তারা নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
সে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাহেনা বেগম হাছনা সেজে উত্তর চৌমুহনার আফিয়া বেগমের নিকট থেকে সরকারী গভীর নলকুপ দেয়ার কথা বলে ১০ হাজার টাকা, সৌর বিদ্যুৎ দেয়ার নামে সালেহা বেগমের নিকট থেকে ১০ হাজার টাকা, অটোরিকশা দেয়ার কথা বলে ফাহিমা বেগমের নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা, সরকারী টিন দেয়ার নামে হাজেরা বেগমের নিকট থেকে ১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাহেনা বেগম হাছনা জানান, আমার নাম ভাঙ্গিয়ে হয়রানীর শিকার কয়েকজন লোক শেষ পর্যন্ত আমার শরনাপন্ন হলে প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি তারা বুঝতে পারেন। রোববার বিকেলেই প্রতারক বাবলুর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেই।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক জানান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাহেনা বেগম হাছনার অভিযোগ পেয়েই প্রতারক বাবলুকে আটক করাহয়। সে অনেকের সাথে নানা কৌশলে প্রতারণা করার কথা স্বীকার করেছে এবং কয়েকজনের টাকা ফেরত দিয়েছে। অন্যান্য মানুষের টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে সে, তার বাবা ও ভাই এবং একজন জনপ্রতিনিধি মুচলেকা দেওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
Sylhetnewsbd Online News Paper