ব্রিটেনে খুলছে শেফ বা রেস্টুরেন্ট কর্মীর সুযোগ

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ ব্রিটেনে বাংলাদেশি নেতৃত্বাধীন রেস্টুরেন্ট ব্যবসা রক্ষায় এবার এগিয়ে আসছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল। তাঁর ঘোষিত নতুন নিয়মে ব্রিটেনে শেফ বা রেস্টুরেন্ট কর্মী আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এই পরিকল্পনায় ব্রিটেনে রেস্টুরেন্টে কাজ করার জন্য শেফ আনতে ইমিগ্রেশনের বাঁধা অনেকটাই দূর হবে। আর প্রীতি প্যাটেলের ঘোষিত নতুন এই সুযোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভিন্দালু ভিসা’।

ব্রিটেনবাসীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে ইন্ডিয়ান তথা বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টের তৈরি কারি। আর সেই কারির মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটি আইটেমের নাম হচ্ছে ভিন্দালু। অথচ ভিন্দালু কিংবা চিকেন টিক্কা মসলা রান্না করার মতো লোকই এখন ব্রিটেনে পাওয়া যাচ্ছে না। ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় একের পর এক কড়াকড়ি আরোপ আর দেশ থেকে শেফ আনতে বড় অংকের আয়ের সীমারেখা বেঁধে দেওয়ার কারণে অসহায় হয়ে পড়েন ব্রিটেনের রেস্টুরেন্টের ব্যবসায়ীরা। যাদের সিংহভাগই হচ্ছেন বাংলাদেশি।

গত কয়েক বছর ধরেই ব্রিটেনে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় ধস নেমেছে। ব্যবসায়ীরা এরজন্য দায়ী করছেন কঠোর ইমিগ্রেশন নীতিকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শেফ এবং স্টাফের অভাবে গত কয়েক বছরে প্রতি সপ্তাহে গড়ে দুইটি দক্ষিণ এশীয় রেস্টুরেন্ট বন্ধ হচ্ছে। মূলত দক্ষিণ এশীয় হিসেবে পরিচিত হলেও এসব রেস্টুরেন্টের অধিকাংশেরই মালিক হচ্ছেন ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা।

বলা হচ্ছে রেস্টুরেন্ট বন্ধের এই ধারাটি অব্যাহত থাকলে আগামী ১০ বছরে ব্রিটেনের প্রায় ৫০ শতাংশ (৬ হাজার) রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে যাবে। এমন বাস্তবতায় লিবডেম পার্টির সদ্য বিদায়ী লিডার ভিন্স ক্যাবেল ২০১৭ সালেই ভিন্দালু ভিসা নামের নতুন ভিসা পদ্ধতি চালুর আবেদন জানিয়েছিলেন। ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডের অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, নিয়মের মারপ্যাঁচ কমিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের শেফদের জন্য এক বছরের অস্থায়ী ভিসা চালু করা হোক। ভিন্দালু ভিসা নামের এই ভিসা মঞ্জুর হলেই উন্নতমানের শেফরা ব্রিটেনে এসে পরের প্রজন্মের ‘কারি-শিল্পীদের’ প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন।

ভিন্স ক্যাবলের ভিন্দালু ভিসার প্রস্তাবটি সেই সময় থেকেই বিলেতে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা রক্ষার চাবিকাঠি হিসেবে গণ্য করা হয়। এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল আনুষ্ঠানিকভাবেই ভিন্দালু ভিসার ঘোষণা দিয়েছেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি জানান, ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে ব্রিটেনে পয়েন্ট বেইসড ইমিগ্রেশন সিস্টেম চালু হওয়ার আগেই আমরা রেস্টুরেন্টের জন্য শেফ নিয়ে আসার নিয়মটি সহজ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এটি কার্যকর হলে বাংলাদেশ থেকে শেফ আনার পথ অনেকটাই উন্মুক্ত হবে। সরকার বলছে, এটি রেস্টুরেন্ট ও টেইকওয়ে ব্যবসায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে।