বড়লেখা পাল্লাথল ট্রাজেডি: হাসপাতালের মেঝেতে কাতরাচ্ছেন আহত কানন বক্তা

বড়লেখা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখার পাল্লাথল চা বাগানে স্ত্রী শাশুড়ীসহ ৪ জনকে কুপিয়ে হত্যার পর ঘাতকের আত্মহত্যার ঘটনায় গুরুতর আহত কানন বক্তার (৪০) ঠাঁই হয়েছে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালের দিকে হাসপাতালে কানন বক্তার জ্ঞান ফিরেছে। মর্মান্তিক এবং নিঃসংশ্ব এই ঘটনায় স্বামী সন্তান হারানো কানন বক্তা এখনো হাসপাতালের বেড পাননি। মাথা চোখসহ শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্বক আহত এই চা শ্রমিক নারীর চিকিৎসা চলছে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের মেঝেতে পাতা বেডে।

মঙ্গলবার(২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সরেজমিনে সিলেট ওসমানী মেডিকেলে হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের ৬ নম্বর মহিলা ওয়ার্ডে গিয়ে কানন বালাকে ফ্লোরবেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখা যায়। হাসপাতালের মেজেতে পাতা বিছনার চাদরে যেন লেপ্টে আছে কানন বক্তার শীর্ণকায় ক্লীষ্ট শরীর। কয়েকবার ডাকার পর তিনি হাত-পা নড়াচড়া করেন এবং চোখ মেলে তাকানোর চেষ্টা করেন। তার ডান চোখে আঘাত থাকায় চোখ মেলতে পারেন নি। এসময় কানন বক্তা কথা বলার চেষ্টাও করেন কিন্তু কথা বলতে পারেন নি। হাসপাতালে তার পাশে রয়েছেন এক প্রতিবেশী চা শ্রমিক নারী ও পাল্লাথল চা বাগানের ডিসপেনসারীতে কর্মরত কম্পাউন্ডার অঞ্জন বীর।

অঞ্জন বীর অভিযোগ করে বলেন হাসপাতালের একটি বেডের জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। ঘটনার প্রায় ৫৫ ঘন্টা পর কানন বক্তার জ্ঞান ফিরেছে। চাঞ্চল্যকর সিরিজ মার্ডারের কবল থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া গুরুতর আহত ওই নারীর চিকিৎসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নেই কোন গুরুত্ব। আহত কানন বালার জ্ঞান ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক।।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায় (এ রিপোর্পাট লেখা পর্যন্ত) বাগানের ব্যবস্থাপক কিংবা মালিক পক্ষের কেউ কানন বক্তাকে দেখতে হাসপাতালে যান নি ।

হাসপাতালে চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কানন বক্তা নিউরো সার্জারী বিভাগের অধ্যাপক ডা. রাশেদুন্নবী খানের তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মাথা, চোখসহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ধারালো স্টেপ ইনজুরী রয়েছে। মাথায় ২৬টি সেলাই হয়েছে। ডান হাত ও কবজিতে হাড়ভাঙ্গা ও কাটাছেড়া জখম রয়েছে। মষ্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে।

নিউরো সার্জারী বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদুন্নবী খানের বরাতে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান রোগী মস্তিষ্কে এবং শরীরের অন্যান্য স্থানে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। দীর্ঘ চিকিৎসায় তার সুস্থ হয়ে উঠার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

উল্লেখ্য গত রোববার(১৯ জানুয়ারি) ভোরে বড়লেখার পাল্লারথল চা বাগান এলাকায় নিজ স্ত্রী-শাশুড়ি এবং দুই প্রতিবেশীসহ চারজনকে হত্যা এবং একজন প্রতিবেশীকে গুরুতর আহত করার একপর্যায়ে নিজে আত্মহত্যা করেন নির্মল কর্মকার নামে এক চা শ্রমিক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্মল স্ত্রী জলি বুনার্জি (৩০) ও শাশুড়ি লক্ষ্মী বুনার্জিকে (৬০) কুপিয়ে হত্যা করেন এ সময় ঠেকাতে গেলে প্রতিবেশী বসন্ত বক্তা (৬০) ও তার মেয়ে শিউলী বক্তাকেও (১৪) হত্যা করেন তিনি। বসন্ত বক্তার স্ত্রী কানন বক্তাকে (৪০) কুপিয়ে আহত করা হয়। এদিন তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।