বড়লেখায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রাস্তা নির্মান, এলাকাবাসীর অভিযোগ অবৈধ হস্তক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বড়লেখা উপজেলার সদর ইউনিয়নের সোনাতলা এলাকায় ধামাই নদী তীরবর্তী সরকারী যায়গা থেকে অবৈধ ঘরবাড়ি ও স্থাপনা উচ্ছেদ করে জনসাধারণনের চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে উচ্ছেদ হওয়া এসব স্থাপনা ব্যক্তি মালিকানাধীন যায়গায় ছিল এবং এলাকাবাসীকে না জানিয়ে হঠাৎ এসে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী এলাকাবাসীসহ সচেতন মহলের।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের সোনাতলা এলাকায় ধামাই নদী এবং নদী তীরবর্তী সরকারি যায়গা দখল করে তৈরি করা কাঁচা পাকা স্থায়ী এবং অস্থায়ী স্থাপনা নদী এবং নদী তীরবরর্তী রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে রাখে। এতে রাস্তাটির প্রশস্ত কমে যাওয়ায় এলাকাবাসীর চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাতে হত। এ রাস্তা দিয়ে কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পারত না। এর মধ্যে রাস্তার পাশ দিয়ে যাদের জমি রয়েছে তারা বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে ভোগ দখল করতে থাকে । ফলে সরকারি রেকর্ডভূক্ত এলাকাবাসীর চলাচলের একমাত্র রাস্তাটির অস্তিত্ব বিলীন হতে থাকে। এমতাবস্থায় এই রাস্তা নির্মাণ ও চলমান ধামাই নদীর খনন কাজ গতিশীল করার লক্ষ্যে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। অভিযান পরিচালনার আগে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে অবগত করা হলেও কেউ কর্ণপাত করে নি। বৃহস্পতিবার বিকেলে উচ্ছেদ অভিযানে অন্তত ৫০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রায় ২শ একর সরকারি যায়গা দখলমূক্ত করা হয়েছে। দখলমূক্ত সরকারি যায়গায় এলাকাবাসীর চলাচলের রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে উপজেলার সোনাতলা এলাকায় গেলে ভুক্তভোগীরা – জানান তাদেরকে কোন প্রকার আগাম নোটিশ না দিয়ে হঠাৎ করে এসে তাদের বাড়ীঘর দোকানপাট ভাংচুর করা হয়। নিজের মালিকানাধীন যায়গায় হঠাৎ করে এমন কাজ হবে তারা আশা করেন নি। তারা জানান উপজেলা প্রশাসন কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে হয়ত এমন কাজ করেছেন। ভাঙ্গচুর চলাকালে উপস্থিত স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে অনুনয় করেও কোন কাজ হয়নি। ঘরবাড়ীর দেয়াল দোকানপাটের পাশাপাশি ফলদার গাছও কেটে ফেলা হয়েছে।

এবিষয়ে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন বলেন, রাস্তাটি নির্মাণের জন্য এলাকাবাসীর র্দীঘদিনের দাবী।এছাড়াও অবৈধ এসব স্থাপনার কারণে ধামাই নদীর খনন কাজ বাধাগ্রস্থ হচ্ছিল। উচ্ছেদের আগে এলাকাবাসীকে তাদের অবৈধ স্থাপনা সরানোর জন্য দফায় দফায় বলা হয়েছে। তারা কথা শোনেন নি।

এদিকে এলাকাবাসীর এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ ও ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিন । উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ জানান এসব স্থাপনা অবৈধ বলে চিহ্নিত করা হয় নি। তাছাড়া কোন প্রকার নোটিশ না দিয়ে মানুষের ঘরবাড়ীতে এমন ভাঙ্গচুর চালানো টিক হয়নি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর অবগত করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান জানান, সোনাতলা এলাকাবাসীর চলাচলের রাস্তা নেই।এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগ লাগবের জন্য আর এস রেকর্ডে থাকা সরকারি রাস্তাটি পুনরায় নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছি। অবৈধ এসব স্থপনা সরানোর বিষয়ে বলা হয় নি এমন অভিযোগ মিথ্যা।কয়েক দফায় সময় বেধে দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তাদেরকে অবগত করা হলেও তারা সরায় নি।