নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সহ ১৬জন করোনা আক্রান্ত

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্কঃ নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্র ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সুনামগঞ্জের শহরের সন্তান ডা. গৌতম রায়সহ আরো ১৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে তারা আইসোলেশনে আছেন। এ পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ৩ জন চিকিৎসকসহ আক্রান্ত হলেন ১৬ জন। গত কয়েকদিন আগে আরো দুইজন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হন।

এদিকে, ১৬ই এপ্রিল বুধবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায় নিজেই। আক্রান্ত অবস্থায় তিনি আইসোলেশনে আছেন বলেও জানান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের একজন চিকিৎসক কয়েকদিন আগে প্রথমে করোনা আক্রান্ত বলে শনাক্ত হন। পরে ওই হাসপাতালের গাইনি বিভাগের এক চিকিৎসকের আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়। আক্রান্ত হন হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের ব্যক্তিগত সহকারি (পিএ) ছিদ্দিকুর রহমানও। এরপর ওই হাসপাতালের বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও স্টাফকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ২১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত নমুনায় নতুন করে আরো ১৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কও রয়েছেন।এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায় আরো বলেন, হাসপাতালের স্টাফসহ নতুন করে ১৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে তিনজন আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। আমিও পজেটিভ, বর্তমানে আইসোলেশনে আছি। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকেও অবগত করা হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, তিনিসহ এই ২৬ জন আক্রান্ত হওয়ায় করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হবেনা জানিয়ে তিনি বলেন, যতক্ষণ আমরা বেঁচে আছি কাজ চলবে। করোনার চিকিৎসকদের টিম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিষ্ঠার সাথে করে যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি নিজেরসহ সবার জন্য তিনি নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। এদিকে, গত এপ্রিল থেকে এই হাসপাতালটিকে ১০টি আইসিউ সুবিধাসম্পন্ন ৫০ শয্যার করোনা চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এ পর্যন্ত ৭২জন চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। বর্তমানে ৩ জন রোগী ভর্তি আছেন এবং তাদেরকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালটিতে ফ্লু কর্ণার ও ৪০ বেডের আইসোলেশন প্রস্তুত হলেও পর্যাপ্ত সরঞ্জামাদি এসে না পৌঁছায় ১০ বেডের আইসিইউ এখনো প্রস্তুত হয়নি। যার কারণে শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে, পরিপূর্ণভাবে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে শিগগিরই আইসিইউ প্রস্তুত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এখানে প্রতিদিন তিন শিফটে ৯ জন চিকিৎসক, ১৮ জন নার্স ও ৬ জন ওয়ার্ড বয় করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা প্রদানে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, ডা. গৌতম রায় সুনামগঞ্জ শহরের বাসিন্দা।