একজন করোণা যোদ্ধা ডা: সায়েম

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: সারা পৃথিবী এখন করোনা আতংকে ধুঁকছে , বাংলাদেশও এ থেকে ব্যতিক্রম নয়। দেশে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে যখন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা নিজেদের নিরাপদে রাখতে গিয়ে অনেকটা নিজদের গুটিয়ে নিয়েছেন, সেই মুহুর্তে তাদের মধ্যেই কিছু সম্মুখ যোদ্ধা আছেন নাছোড়বান্ধা। তারা এই লকডাউনের সময়ে রোগীর ডাকে আরও গভীরভাবে সাড়া দিয়েছেন। তাদের একজন ডা: মাহবুবুর রশীদ সায়েম। তিনি নর্থ ইষ্ট মেডিক্যাল থেকে ২০১২ সালে এমবিবিএস ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে সিসিডি কোর্স সম্পন্ন করে বর্তমানে নর্থ ইষ্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত।

করোণা মহামারীর প্রাদুর্ভাবে যখন সিলেটবাসী চিকিৎসা সেবা সহজে পাচ্ছিলেন না ঠিক সেই মুহুর্তে সাহসী সম্মুখ যোদ্ধা ডা: সায়েম সোশ্যাল মিডিয়ায় তার সেল ফোন নাম্বার দিয়ে রোগী ও তার এটেনডেন্টদের যেকোন সমস্যায় যোগাযোগ করার জন্য আহবান জানান। এরপর থেকে প্রতিনিয়ত তার সেলফোনে রোগীর আহবান আসতে থাকে যা এপ্রিল মাস থেকে শুরু করে সারা রমজান মাসই বিস্তৃত ছিলো। পাশাপাশি মেডি এইডে তার চেম্বারে রোগী দেখা অব্যাহত ছিল। এই সংবাদটি প্রস্তুত করতে গিয়ে জানা যায়, রায়নগর দর্জিপাড়ার বাসিন্দা সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী চৌধুরী হাছান মো: আব্দুল্লাহ রাজেনের এক আত্মীয় রাত ২.০০ টায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে গেলে ডা: সায়েমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আইনজীবীর আত্নীয়ের বাসায় চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য দ্রুত চলে যান।গত ১৫. ০৫.২০২৯ তারিখে রায়নগরের বাসিন্দা শফিক আহমদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার ছেলে ডা: সায়েমের সাথে রাত ১.০০ টায় যোগাযোগ করলে তিনি সেখানেও ছুটে চলে যান।

এছাড়া জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মেজর জেনারেল( অব:) নাজমুল ইসলামের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে উনার ছেলে ডা: সায়েমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সেখানেও খবর পেয়েই ছুটে চলে যান। তিনি করোণা মহামারীর শুরু থেকেই মেডিএইড সেন্টারে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। প্রতিদিনই ইফতারের পরে উনার বাসায় নগরীর বিভিন্ন জায়গা থোকে রোগী আসে যাদের তিনি হাসিমুখে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন অনেক ডাক্তাররা নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে নিজেদের কিছুটা গুটিয়ে নিয়েছেন সেখানে ডা: সায়েম মানুষের কথা চিন্তা করে সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, জীবন দিয়েছেন আল্লাহ, তাই এই জীবনে মানুষের এই করুণ পরিস্থিতিতে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মত শান্তি আর কিছুতে নাই। যেকোন প্রয়োজনে আরও বিপদজনক অবস্থার সৃষ্টি হলেও ইনশাআল্লাহ আমৃত্যু তিনি মানুষের সেবায় থাকবেন।