মস্তফা উদ্দিন: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধারের জের ধরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পৃথক দুই মামলার এজাহার নামীয় ৩ আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও মামলার প্রধান আসামী সাইদুল ইসলাম সহ ১৫ জন পলাতক রয়েছেন। তাদেরকে গ্রেফতার করতে পুলিশ ভিবিন্ন স্হানে সাড়াশি অভিযান চালাচ্ছে।
গ্রেফতার কৃত এজাহার নামীয় ৩ আসামি সুমন আহমদ(২৫),নয়ন আহমদ (২২) ও আবুল হোসেন (২৭)।তারা সকলে পৌর শহরের গাজিটেকা এলাকার বাসিন্দা।আজ শনিবার (৪জুলাই) আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়।
শুক্রবার (৩জুলাই) মামলার পর ৩জনকে গ্রেফতার করলেও রাতে প্রধান আসামি সাইদুলসহ বাকি ১৫ জনকে গ্রেফতার করতে সিলেটসহ বিভিন্নস্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। আজ শনিবারও তাদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্নস্থানে অভিযান চালানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে,গতকাল শুক্রবার (৩জুলাই) রাতে প্রধান আসামি সাইদুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়াছিনুল হকের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ টিম ও সিলেট কোতয়ালী থানা ও সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের সহায়তায় সিলেট শহরতলির গার্ডেন টাওয়ারের ২০৬৪নং ফ্লাটে অভিযান চালানো হয়। এসময় সাইদুল ইসলামকে বাসায় পাওয়া যায়নি। সেসময় মামলার অন্য আসামীদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হয়।
এব্যাপারে বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক শনিবার রাতে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে।তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাটানো হয়েছে। প্রধান আসামি সাইদুল ইসলামসহ অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। শুক্রবার রাতে মামলার প্রধান আসামী সাইদুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে পুলিশ সিলেটে তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। এসময় তাকে পাওয়া যায়নি। সাইদুলসহ অন্যান্য আসামীদেরকে গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে,গত (১জুলাই) বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পৌরশহরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭০ মণ নিষিদ্ধ পলিথিন উদ্ধার করে।এর মধ্যে মামলার প্রধান আসামি সাইদুল ইসলামের পারিবারিক মালিকানাধীন রেলওয়ে স্টেশন রোডস্থ শাহজালাল শপিং সিটি থেকেও পলিথিন উদ্ধার করে প্রশাসন। মামলার বাদী আহত শামীম আহমদের ইঙ্গিতে প্রশাসন অভিযান চালায় বলে আসামিরা সন্দেহ করে।এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে পৌর শহরের উত্তর বাজার এলাকায় শামীম আহমদকে কুপিয়ে জখম করে রাস্তায় ফেলে যায়। এতে শামীম গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে অবস্থার অবনতি হলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শামীম আহমদের উপর হামলার খবর পেয়ে তার ভাই যুবলীগ নেতা জসিম উদ্দিনসহ স্বজনরা ঘটনাস্থলে গেলে বেলা ১টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে জসিম উদ্দিনসহ উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হন।
সংঘর্ষের ঘটনায় আহত শামীম আহমদ শুক্রবার বিকেলে ১৮ জনের ও আহত জসিম উদ্দিন ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে পৃথক দুইটি মামলা করেন। দু’ই মামলায় ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলার পর শুক্রবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে।
Sylhetnewsbd Online News Paper