বড়লেখায় চাঞ্চল্যকর আমীর উদ্দিন হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

মস্তফা উদ্দিন,বড়লেখা: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার নিজ বাহাদুর পুর ইউনিয়নের চাঞ্চল্যকর বৃদ্ধ আমীর উদ্দিন (৬৫) হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামি আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে আব্দুলাহকে বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রতন দেব নাথের নেতৃত্বে সংগীয় ফোর্স সহ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করাহয়।

গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়লেখা থানার (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার।গ্রেফতারকৃত আব্দুল্লাহ (২৬) উপজেলার নিজ বাদুরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ৯ সেপ্টেম্বর রাতে নিজ বাহাদুরপুর ইউপির (এরাল বিলের) বাউরিলখাল এলাকায় অস্থায়ী বসতঘরে আমীর উদ্দিন ও তার স্ত্রী বিলকিছ বেগমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় স্থানীয় সন্ত্রাসী এবাদ আহমদ বাপ্পী (২৬),আছার উদ্দিন (৪৫)’ রাজু আহমদ (২২),আনোয়ারুল ইসলাম(৪০)’, হোসেন (৩৫), শুকুর আলী (৩০), ফারুক আহমদ(৪০)’, দুদু মিয়া (৪০), আব্দুল্লাহ (২৬)’, সেলিম আহমদ(২৭)’, সাইদুল ইসলাম(২৯)’,। সন্ত্রাসীরা বিলকিছ বেগম ও আমীর উদ্দিনকে বাউরিলখালে পিটিয়ে আহত করে। বিলকিছ বেগম চিৎকার করলে তার চুল কেটে রাস্তায় ফেলে রেখে আমীর উদ্দিনকে পাশবর্তী সাধুর কালীবাড়ী টিলায় নিয়ে উপর্যুপুরী আঘাতে তার দুই পা, দুই হাত, কোমর ভেঙ্গে দেয়। মাথার এক পাশ দিয়ে শিকল ঢুকিয়ে আরেক পাশ দিয়ে বের করে, জিহ্বার এক ইঞ্চি পরিমান কেটে ফেলে। দুই কানের ভিতরে ছিদ্র করে, ঘাড় ভেঙ্গে দেয়। পরে সন্ত্রাসীরা তাকে মৃত ভেবে ফেলে যায়। ভোরে এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে ৭ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে তার মৃত্যু ঘটে।

ঘটনার পর আহত আমীর উদ্দিনের মেয়ে জেনেফা বেগম জেবা ১১ সন্ত্রাসীর নাম উলে­খ করে বড়লেখা থানায় মামলা করেন। জেনেফা বেগম জেবা জানান, তার পিতার শরীরের এমন কোন অঙ্গ বাদ যায়নি যেখান সন্ত্রাসীরা ভাঙ্গেনি। হাত-পা, কোমর ভেঙ্গে জিহ্বা কেটে ফেলে। তাদের নির্মম নির্যাতনে ৭ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে আমার বাবা মারা গেছেন।

বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)
(ওসি) রতন দেব নাথ জানান,ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামীরা পলাতক রয়েছে। দায়েরকৃত মামলার আসামি আব্দুল্লাহকে আজ গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।