গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরীর ট্যাম্পাকো নামক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪ হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক লোক। শনিবার(১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে এ বিস্ফোরণ ঘটে।
জানা যায়, আগুনের তীব্রতায় চারতলা ভবনের একাংশ ধ্বসে পড়েছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা আশপাশের বাসাবাড়ি, গোডাউন, ব্যাংক ও কারখানায় ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এতে অন্তত ২২ জন নারী ও শিশুসহ নিহত এবং শতাধিক শ্রমিক ও পথচারী আহত হয়েছেন।
আহতদের টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এবং উত্তরার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে টঙ্গী, জয়দেবপুর, ঢাকার কুর্মিটোলা ও আশুলিয়া ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট চেষ্টা চালিয়েও বেলা ৩টা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।
এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ডিডি বদিউজ্জামানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জয়দেবপুর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. রফিকুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, শনিবার সকাল ৬টার দিকে নিচ তলায় বয়লার বিস্ফোরণের পর ট্যাম্পাকো নামের ওই কারখানার পুরো ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, শনিবার ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে কারখানার বয়লার বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজে সেখানে যায় ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট। বিস্ফোরণের পর চার তলা ভবনের একটি অংশ ভেঙ্গে পড়েছে বলেও জানা যায়।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, ঈদের আগমুহূর্তে প্রায় শতাধিক নারী ও পুরুষ শ্রমিক ওই কারখানায় রাতভর কাজ করছিলেন। হঠাৎ আগুন লাগায় তারা হতভম্ব হয়ে পড়েন এবং দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন। আটকে পড়া শ্রমিকরা হুড়োহুড়ি করে বের হতে গেলে আগুনে পুড়ে ও দেয়াল চাপায় কারখানার শিফট ইনচার্জ সুভাষ চন্দ্র দাস, ইদ্রিস আলী, আল মামুন, নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর আলম, দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল হান্নান, শ্রমিক জাহিদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, রফিকুল ইসলাম, দুইজন অজ্ঞাত পথচারী, শিশু ও মহিলাসহ অন্তত ২০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আসিফ, রোকন, দিলিপ চন্দ্র রায়, ফেরদৌস আলম, আবু সাঈদ, আকবর আলী, শহিদুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, লিটন, মাহবুব, কামরুল ইসলাম, জাকির হোসেন, মিজানুর রহমার, নিজামউদ্দিন, শহিদুল, শাহআলমসহ অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রায় ৩০ জনকে ঢামেক হাসপাতালে নেয়ার পর চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
টঙ্গী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. পারভেজ মিয়া জানান, প্রথমে দগ্ধ ও শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে মৃত দুইজনকে এবং পরে মৃত অবস্থায় আরও ১০ জনকে আনা হয়। তবে হাসপাতালে নয়টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
এর আগে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, হাসপাতালে ১৯ জনকে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে এক নারীসহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানান, আহত অধিকাংশের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
Sylhetnewsbd Online News Paper