‘কোনো শক্তিই শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন রুখতে পারবে না’

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: পৃথিবীর কোনো শক্তিই শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন রুখতে পারবে না। বাংলাদেশে চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে, দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে, অথচ আমাদের কৃষকের আলুর দাম বাড়লে অনেকের মাথা ব্যথা হয়ে দাঁড়ায়।
আমাদের সরকার শিক্ষা খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে, বিদ্যুৎ সোলার, বই, উপবৃত্তি দিচ্ছে। তারপরেও আমরা নাকি কিছুই পারছি না দেশ নাকি রসাতলে যাচ্ছে। আমি বলতে চাই উনারা তো বাংলাদেশে চেয়ে থাকেন না, তারা তো পাকিস্তানে চেয়ে থাকেন। তাই উন্নয়নে জোয়ার দেখতে পাননি।
জামালপুরের ইসলামপুরে গুঠাইল উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ মাঠে মঙ্গলবার বিকালে সোলার হ্যারিকেন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা নাকি লুট করি, বেগম জিয়া কোথায় লুট হলো একটু দেখিয়ে দেবেন। বিএনপির সময় কৃষকদের সার নিতে হলে জমির কাগজ লাগতো। আর এখন সারের জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না।

বেগম মা জননী আপনি, আপনার স্বামী, দেবর এরশাদ অনেকদিন ক্ষমতায় থেকেছেন অথচ দেশের কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি।

আর আমার নেত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে পদ্মা সেতু তৈরি করছেন। আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেব। কোনো বাধাই রুখতে পারবে না।
মা জননী আমরা লুট করে খেলেও আমরা কাজ করেছি, আপনি কি করেছেন? আপনারা তো কিছুই করতে পারেননি, হাতিরঝিলটাও তৈরি করতে পারেননি। অথচ আপনারা পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ স্থানে আপনারা শিশু পার্ক করেছেন। আর আমরা স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দৌঁড়গোড়ায় পৌঁছে দিয়েছি আপনারা কি করেছেন।

আপনারা বলেন, নৌকায় ভোট দিলে গোলমাল হবে নৌকায় ভোট দেওয়া যাবে না। আপনি জেনে রাখুন নৌকায় ভোট দিলে দেশ উন্নয়নের দিকে যায়। তাই বাংলার মানুষ আর নৌকা ভুলবে না।

আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রাম ও শহর একাকার করে দেবে, এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। আমরা খবরের কাগজ পড়ি কিন্তু খবরের কাগজ পড়ে শেখ হাসিনা দেশ চালায় না।

আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর বোমা মারা হয়েছে, আপনি দেখেন তো আপনাকে বোমা মেরেছে কিনা, আমরা বোমা মারার রাজনীতি করি না। তাই আমাদেরকে বাংলার মানুষ ক্ষমতায় এনেছে। আমাদের ভারত-পাকিস্তান ক্ষমতায় আনেনি। তাই বাংলার জনগণের সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা দৌড়গোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাদের তথা আওয়ামী লীগের রাজনীতি। খুনিরা আবারো রাজত্ব করতে চায়, তাই তাদের রুখে দাঁড়ানোর সময় এখনি।
তিনি আরো বলেন, শত শত ভাষানী, শত শত ফজলুল হকের মতো নেতা জন্ম নিলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্ম না নিলে এ দেশ স্বাধীন হতো না।

ইসলামপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সোলার হ্যারিকেন বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কবীর উদ্দিন। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য আলহাজ ফরিদুল হক খান দুলাল। অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নবী নেওয়াজ খান লোহানী বিপুল, পৌর মেয়র আ. কাদের শেখ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুখলেছুর রহমান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ সদস্য ওয়ারেছ আলী, বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ. মালেক প্রমুখ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আইনজীবী আ. সালাসের সঞ্চালনায় এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এ সভায় ৬ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে সোলার হ্যারিকেন বিতরণ করা হয়েছে।