আহম্মদ কবির,তাহিরপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ তাহিরপুর সুন্দর্যের নীলাভুমি দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাংগুয়ার হাওর এলাকার জয়পুর সরকারী প্রাথমীক বিদ্যালয়,বিদ্যালয়টি অবস্থানরত ছিলানী তাহিরপুর নামক অজপাড়া গ্রামে, যার পাশ দিয়েই বহমান পাঠলাই নাদি,আর এই পাঠলাই নদি দিয়েই দেশের সর্ব নিম্ন হতে সর্বউচ্চ মহলের সরকারী কর্মকর্তাগন প্রকৃতিক সুন্দর্য দেখতে ও পরদর্শন করতে আসেন টাংগুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায়,হয়তো বা প্রকৃতিক সুন্দর্য দেখার আনন্দে নিজেদের মগ্ন করে,নজর দেন নি এই অজপাড়া গ্রামের অবহেলিত বিদ্যালয়টির দিকে।
স্থানিয় এলাকাবাসীর তথ্যমতে জানা যায়, জয়পুর সরকারী প্রাথমীক বিদ্যালয়টিতে টাংগুয়ার হাওর পাড়ের জয়পুর,গোলাবাড়ি,জয়পুর নতুন হাটি,ইসলামপুর,ছিলানী তাহিরপুরসহ মোট পাঁচটি গ্রামের অভিবাবকগন তাদের কুমলমতি শিশুদের শিক্ষা অর্জন করাতে চেষ্টা করে আসছেন।
কিন্তু উক্ত বিদ্যালয়ের অভিবাবকগনের তথ্যমতে জানা যায়, উক্ত বিদ্যালয়ে প্রধানশিক্ষকসহ শিক্ষকের পদ সংখ্যা রয়েছে ৭ টি।তার মধ্যে কর্মরত শিক্ষক আছেন ৩ জন। তাদের মধ্যে একজন আছেন ডিপিএড প্রশিক্ষণে।প্রধান শিক্ষকসহ ৩০/৪/২০১১ ইং হইতে শিক্ষকের পদ শুন্য ৪টি উক্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারনে কুমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিঘ্নতা হয়ে আসছে ৭ বছর যাবৎ। শিক্ষক সংকটের কারনে উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নাম মাত্র পরিনত হওয়ায় ছাত্র ছাত্রীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ের ক্লাসের মনোযোগি হারিয়ে ফেলছে।যার ফলে টাংগুয়ার হাওর পাড়ের অধিকাংশ শিশুই বিদ্যালয়ের শিক্ষা অর্জন হতে ঝরে পড়ে টাংগুয়ার হাওরে মৎস্য আহরনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে,আর টাংগুয়ার হাওরের উপড় নির্ভরশীলতা দিন দিন বেড়েই চলছে। উক্ত বদ্যালয়ে বর্তমানে ২জন শিক্ষক অবস্থানরত আছেন। যার ফলে বিদ্যালয়ের পাঠদানে একজন শিক্ষক অধিক শিক্ষর্থীর ভিড়ে ও একাধিক ক্লাস নিতে গিয়ে মানসিক চাঁপে থাকায় রিতিমত হিমশিম খাচ্ছেন। দু জনের মধ্যে আবার একজনকে ভা:প্রা:প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল কাজ করতে উপজেলা সদরে যাওয়া আসা করার কারনে দায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষক সঠিক ভাবে বিদ্যালয়ে সময় ও পাঠদানে মনোযোগি হতে পারছেন না। শিক্ষক সংকট থাকার কারনে উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের পাঠাদান বুঝে উঠতে পারছেনা।
জানা যায়,অবহেলিত টাংগুয়ার হাওর অঞ্চলের জয়পুর সরকারী প্রাথমীক বিদ্যালয়ে শিক্ষকগন চাকরী পাওয়ার পরেই নাম মাত্র যোগদান করে নিজের পছন্দমত বিদ্যালয়ে বদলী হতে উঠে পরে লেগে যায়। এ সুযোগ কে হাত ছাড়া না করে,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মোটা অংকের উৎকুচ নিয়ে নিজের পকেট ভারি করতে শুরু করেন বদলীর বানিজ্য।উক্ত অজপাড়া গ্রামের বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক যোগদান করেই বদলীর জন্য ছুটা ছুটি করতে গিয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ে না এসেও মাসে মাসে কর্তৃপক্ষ কে উৎকুচ দিয়ে বেতন উত্তোলন করে দিব্বি রাজার হালেই বসে থাকেন।যার ফলেই টাংগুয়ার হাওর পাড়ের উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানবড়ছেও না ও শিক্ষক সংকট লেগেই আছে।
অন্যদিকে উক্ত বিদ্যালয়ের পিডিবি বিল্ডিং রয়েছে ২টি, তার মধ্যে পুরাতন বিল্ডিং রয়েছে ১টি পুরাতন বিল্ডিংগে শ্রেনী কক্ষ সংখ্যায় আছে ৩ টি, কিন্তু বৃষ্টি আসলেই, বিল্ডিংগের ছাদ দিয়ে পাঁনি পড়ে অনরগল, শ্রেণি কক্ষে বৃষ্টি পড়ার কারনে, কুমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তে পেলে দেয়। তখন পিডিপি ২ রুমে তৃতীয় ও চর্তুথ শ্রেনীর ক্লাস নিতে হয় একই রুমে এক সাথে আর অন্য এক রুমে ৫ ম শ্রেণির ক্লাস নিতে হয়। এভাবেই চলছে বিগত পাচটি বছর ধরে।
উক্ত বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ হাদিউজ্জামান ও প্রাক প্রাথমিক শিক্ষিকা আফসানা নাজনীন বলেন, জয়পুর সরকারী প্রাথমীক বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ শুন্যতার কারনে অধিক শিক্ষার্থীর একাদিক পাঠ্যদান করতে হচ্ছে। যার ফলে মানষিক ভাবে খুব চাঁপে আছি, এ ভাবে আর কিছু দিন চলতে থাকলে আমাদের ঠিকানা হবে পাবনার পাগলা গারদে। উক্ত বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার্স ফেরদৌস আলম এর মোবাইল ফোনে অনেক বার চেষ্টা করার পর উনি ফোন রিচিব না করায় আলাপ করা সম্ভব হয়নি।
Sylhetnewsbd Online News Paper