রাত পোহালেই ভোট খুলনায়, রয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: প্রচার-প্রচারণা শেষ। রাত পোহালেই ভোট। চলছে শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ। ভোট নিয়ে রয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও। কেমন হবে খুলনার ভোট। নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ ভোট উপহার দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগে মডেল তৈরি করবে নাকি আগের দখল-কারচুপির মডেলই দেখা যাবে এই নির্বাচনে? এমন প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে।

প্রায় পাঁচ লাখ ভোটারের এ সিটিতে নির্বাচন হলেও পুরো দেশের দৃষ্টি এখন এই শিল্পনগরীতে। জাতীয় নির্বাচনের আগে এই নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। আর তাই প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এ নির্বাচনে মেয়র পদটি তাদের দখলে নিতে মরিয়া।

মঙ্গলবার সকাল আটটায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল চারটা পর্যন্ত। সোমবার সকাল থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয়েছে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ।

ভোটের পরিবেশ নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কিছুটা অভিযোগ থাকলেও আওয়ামী লীগ বা জাতীয় পার্টির তেমন কোনো অভিযোগ নেই নির্বাচন নিয়ে। নির্বাচন কমিশনও এখানে শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু ভোটের নিশ্চয়তা দিচ্ছে।

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক, ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির শফিকুর রহমান মুশফিক, হাতপাখা প্রথীকে ইসলামী আন্দোলনের মুজ্জাম্মিল হক এবং কাস্তে প্রতীকে সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু।

স্থানীয় এই নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়ায় খুলনা নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। প্রচারণার শেষ দিন গতকাল রোববার কাক ডাকা ভোর থেকে মাঝরাত পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা চালায় প্রার্থীরা। নগরীর অলিগলিতে গিয়ে শেষবারের মতো ভোটারদের দ্বারে দ্বারে হাত ধরে দোয়া চেয়েছেন তারা। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিসহ প্রচারণার কৌশল কোনোটাই তারা বাদ রাখেননি প্রার্থীরা। প্রার্থীদের সমর্থনে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন নেতাকর্মী-সমর্থকরাও।

রোববার রাতে মহানগরীর নতুন বাজার চর এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভার পর প্রচারণা শেষে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছিলেন, জনগণ খুলনার উন্নয়ন চায়। গত ৫ বছর খুলনা সিটির মানুষ কোনও উন্নয়ন পায়নি। নাগরিকরা আর বঞ্চিত ও অবহেলিত থাকতে চান না। তাই তারা খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে নৌকার বিজয়ের প্রহর গুনছে।

অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, যত বাধাই আসুক না কেন, খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন থেকে বিএনপি সরে দাঁড়াবে না। আমরা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবো। এছাড়া নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহতের ঘোষণা দেন তিনি।

এছাড়া মহানগরীর ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। খুলনা সিটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন।

নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা রয়েছেন ৪ হাজার ৯৭২ জন। এ নির্বাচনে ২৮৯টি ভোট কেন্দ্র। এর মধ্যে দুটি ভোট কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে। এ দুটি কেন্দ্রের ১০টি বুথে ইভিএমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন দুই হাজার ৯৭৮ ভোটার।

এদিকে নির্বাচনে ২৮৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৩৪টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি ৫৫টিকে তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

খুলনার জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান জানান, সোমবার থেকে ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (বিচারিক হাকিম) দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা ও নির্বাচনী আচরণবিধি মানা নিশ্চিত করতে ৩১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। রোববার থেকে তারা নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সোনালী সেন বলেন, নির্বাচনে সাড়ে নয় হাজার পুলিশ, বিজিবি, এপি ব্যাটেলিয়ান ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে পুলিশের পাশাপাশি ১৬ প্লাটুন বিজিবি, সাড়ে চার হাজার আনসার-ভিডিপি সদস্য থাকবে।

এই প্রসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশনের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নির্বাচনী সরঞ্জাম বুঝিয়ে দেওয়া শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় তাদের এসব সামগ্রী কেন্দ্রে কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন।