একরামুল নিহতের একসপ্তাহ পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফোন

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: মাদক বিরোধ অভিযান শুরুর পর থেকে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় দেশব্যাপী। বিশেষ করে র‍্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যুর পর প্রশ্ন দেখা দেয় অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়ে। বিষয়টি নিয়ে তুমুল সমালোচনায় পড়ে সরকার।

এদিকে একরামুল হক নিহতের একসপ্তাহ পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফোন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগম।

তিনি জানান, রোববার (৩ মে) বিকাল ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আয়েশা বেগমের কাছে একটি ফোন আসে। যিনি ফোন করেছিলেন তার নাম-পরিচয় মনে নেই। তবে ফোনকারী নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানিয়েছেন, ঘটনার বিস্তারিত জানতে আবারও যোগাযোগ করা হবে।

আয়েশা বেগম আরও জানিয়েছেন তারা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে সময় পার করছেন।

অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্কুলপড়ুয়া দুই কিশোরী মেয়ে নিয়ে চট্টগ্রামে লুকিয়ে আছি। নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে সময় পার করছি।

আয়েশা বলেন, তিন নারী (তিনি ও দুই মেয়ে) ছাড়া ঘরে আর কেউ নেই। মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে যে থানা-আদালতে দৌড়াদৌড়ি করব, সেই সুযোগ ও পরিস্থিতি কোনোটি নেই। মেয়ে দুটো সারাক্ষণ বাবার জন্য কান্নাকাটি করছে, ক্ষণে ক্ষণে মূর্ছা যাচ্ছে, কী করব ভেবে পাচ্ছি না।

আয়েশার প্রশ্ন, ইয়াবা ব্যবসায়ীর তকমা দিয়ে একরামুলকে হত্যা করা হলেও টেকনাফে কি আদৌ ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ হবে? ইয়াবা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত আসল হোতাদের কি গ্রেফতার কিংবা আইনের আওতায় আনা হবে?

উল্লেখ্য, গত ২৬ মে বন্দুকযুদ্ধে একরাম নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। বাহিনীটির দাবি, ইয়াবা চালানের লেনেদেনের খবর পেয়ে অভিযানে যায় একটি দল। সেসময় র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় র‌্যাব।

মাদক চক্রের অন্যরা পিছু হটলে একরামুল হকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গান, ছয়টি গুলি ও পাঁচটি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও র‌্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

তবে একরামুলের পরিবারের দাবি, তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ নিয়ে গত ৩১ মে টেকনাফে এক সংবাদ সম্মেলন করেন একরামুলের পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে একরামুলের স্ত্রী আয়েশা বেগম সাংবাদিকদের কাছে একটি অডিও রেকর্ড তুলে ধরেন। সেই রেকর্ডটি খতিয়ে দেখছে র‌্যাব।