সিসিক নির্বাচনে ৫ মেয়র প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জামানত হারাতে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশের সিলেট মহানগরীর আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ ৫ প্রার্থী। বাকিরা হলেন ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, আবু জাফর, বদরুজ্জামান সেলিম ও মো. এহছানুল হক তাহের।

সোমবার ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এই পাঁচ প্রার্থী জামানত টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনীয় ভোট পেতে ব্যর্থ হন।

নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের চেয়ে ৪ হাজার ৬২৬ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

তবে নির্বাচনে জামাতের এমন ভরাডুবির কারন অনুসন্ধানে এখন জামায়াতই ব্যস্ত।জামাতের কেন্দ্র থেকে স্থানীয় নেতারা অনেকটা হুংকার দিয়েই বলেছিলেন এ নির্বাচনে তারা একটা ফেক্টর।কিন্তু সিলেটের জনগন জামায়াতকে গ্রহন করেনি।তারা ২০ দলে জামাতের অবস্থানকেই অনেকটা নড়বড়ে করে দিয়েছে । এই নির্বাচন বিএনপিকে বরং জায়ামাতকে ছাড়াই পথ চলতে আশবস্থ করে তুলেছে ।তবে জামাতের স্থানীয় নেতাদের ধারনা জামাতের সমর্থকদের কেউ কেউ হয়তো দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে ২০ দলের প্রার্থী হিসেবে আরিফুল হককে ভোট দেয়ায় এমন ভরাডুবিতে পড়তে হয়েছে।তবে সাধারন মানুষের ধারনা জা্মাতের অদূরদর্শীতার কারনেই তারা আজ প্রশ্নের মুখোমুখি পড়েছে।অর্থাত ২০ দলের প্রার্থীকেই সমর্থন দেয়া উচিত ছিলো বলে তারা মনে করছেন।যদিও এই ভরাডুবির জন্য সংবাদ সম্মেলন করে দলের প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জোবায়ের আওয়ামীলীগের কেন্দ্র দখলকে দায়ি করেছেন কিন্ত কেন্দ্র দখলে তো বিএনপিরও ভরাডুবি হওয়ার কথা ছিলো।কিন্তু বিএনপির প্রার্থী তো অনেকটা জয়ের বন্দরে পৌছে গেলো।তবে কি জামাতের সমর্থকরা দলের নেতৃতবের উপর আস্থা রাখতে পারছেনা -এমন প্রশ্নও উঠে আসছে বিশ্লেষকদের মাঝে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক অফিস থেকে প্রকাশিত ১৩২টি কেন্দ্রের মধ্যে আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা-২০১০ এর ৪৪ বিধির ৩ উপবিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ বা ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর যদি দেখা যায় কোনও প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের ৮ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাহলে তার জামানত সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে। সেই হিসেবে মেয়র প্রার্থীদের জামানত টিকিয়ে রাখতে ২৪ হাজারের বেশি ভোট পেতে হবে। কিন্তু ৫ প্রার্থীর কেউই এ পরিমাণ ভোট পাননি।

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩ লক্ষ ২১ হাজার ৭৩২ জন ভোটারের বিপরীতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১ লক্ষ ৯৮ হাজার ৬শত ৫৭ জন। যা সিলেট নগরীর মোট ভোটারের ৬২ শতাংশ। সেই হিসেবে জামানত টিকিয়ে রাখতে প্রার্থীদের ১৬ হাজারের মত ভোট পেতে হতো। কিন্তু ঘোষিত ফলে দেখা যায়- নাগরিক ফোরামের প্রার্থী মহানগর জামায়াতে ইসলামির আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের টেবিল ঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ১০ হাজার ৯ শত ৫৪ ভোট; ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন হাত পাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১ শত ৯৫ ভোট; সিপিবি-বাসদ মনোনীত প্রার্থী আবু জাফর মই প্রতীকে পেয়েছেন ৯ শত ভোট; নাগরিক কমিটির প্রার্থী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম বাসগাড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৫ শত ৮২ ভোট; এবং সচেতন নাগরিক সমাজের প্রার্থী মো. এহছানুল হক তাহের হরিণ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ শত ৯২ ভোট।

এছাড়া স্থগিত হওয়া দুটি কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ হাজার ৮ শত ৭৭ জন। স্থগিত দুই কেন্দ্রের সবগুলো ভোট পেলেও এই পাঁচ প্রার্থীর কারোরই জামানত টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।