নিরাপদ সড়ক দিবসে কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়কে ৪ জন নিহত

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সোমবার নিরাপদ সড়ক দিবসেও কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে পৃথক দুইটি সড়ক দুর্ঘটনায় পিতা-পুত্রসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

২২ অক্টোবর সোমবার সারাদেশের মতো উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ সড়ক দিবস পালন করা হয়।

দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন- শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক গ্রামের এলেম হোসেন (৪৮), তার ছেলে একরাম হোসেন (২৫), টামটা উত্তর ইউনিয়নের সুরসই গ্রামের কাজী আবু সুফিয়ান (৩৫) ও হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ধেররা গ্রামের মৃত. ওয়ালী উল্লাহর স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৭০)।

আহত বিল্লাল হোসেন শাহরাস্তি উপজেলার ওয়ারুক গ্রামের বাসিন্দা ও সিএনজি অটোরিকশা চালক শাহজাহান হাজীগঞ্জ উপজেলার মৈশাদী গ্রামের বাসিন্দা। দুইজনেই চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোররাতে ওয়ারুক থেকে সিএনজি অটোরিকশা যোগে এলেম হোসেন, তার ছেলে আকরাম হোসেন, কাজী আবু সুফিয়ান ও বিল্লাল হোসেন বড়শি দিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে চাঁদপুরে রওয়ানা দেন। কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়কের বাকিলা ইউনিয়নের গোঘরা এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিকে ছেড়ে আসা একটি কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন ব্যক্তি মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আহতদের চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

একই দিনে সকাল ১১টায় রাস্তা পার হতে যেয়ে পৌরসভাধীন ধেররা এলাকায় ফাতেমা বেগম নামের এক মহিলা বোগদাদ বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিদর্শক ফরিদ আহমেদ জানান, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। রাতের বেলায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়কের উপর এলোমেলোভাবে মাটি ফেলে রাস্তা সরু করে রাখায় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঠিক কোন গাড়ির সঙ্গে সিএনজির সংঘর্ষ ঘটেছে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।

হাজীগঞ্জ থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের লাশ পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সড়ক দুর্ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনার কারণ জানতে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।