আজ ভালবাসার দিন

আশরাফুর রহমান(জুয়েল):
“যদি ভালবাসা দাও, তবে একবার এসে দেখা দাও, যদি ভালবাসো আমায় একবার এসে ছুঁেয় যাও, তুমি হীনা আমার ভালবাসা পূর্ণ হয় না,…।”
ভালবাসা নিয়ে কবির এমন বচন সত্যি হয়ে ধরা দেয় প্রতিটি মানবজীবনে। ভালবাসা কখনও মানুষকে ভাসায়। কখনও বা ডুবায়। তবুও মানুষ বারবার ভালবাসতে চায়।

আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ভালবাসা দিবস। “ভেলেন্টাইনস ডে”। পাশ্চাত্যে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে শত শত বছর ধরে।

তথ্যভান্ডার থেকে জানা যায়, স্বনামধন্য সাংবাদিক শফিক রেহমানের উদ্যোগে প্রায় ২২ বছর আগে (১৯৯৩ সাল) পাশ্চাত্যের এই ভেলেন্টাইনস ডে’র সূচনা হয় বাংলাদেশে। আর এখন তো মহাধুমধামে পালিত হয় বিশ্ব ভালবাসা দিবস।

আজ বিশ্ব ভালবাসা দিবসকে উপলক্ষ করে দেশজুড়ে নানা মাত্রিক কনসার্ট আর বর্ণিল আয়োজনের মধ্যেও দেশের প্রায় প্রতিটি টিভি চ্যানেল ও রেডিও স্টেশন দিনজুড়ে সম্প্রচার করবে ভালবাসা দিবসের বিশেষ নাটক-চলচ্চিত্র এবং অনুষ্ঠান।

এদিকে বিশ্ব ভালবাসা দিবস উপলক্ষে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেশ ছোট পরিসরে সিলেটে দু-চারটি রেস্টুরেন্টে গানের আয়োজন থাকছে।
নগরীর শ্রীহট্ট সংস্কৃত কলেজ, এমসি কলেজ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব ভালবাসা দিবস উপলক্ষে লাল গোলাপ হাতে তরুণ-তরুণীদের ঢল নামবে আজ।

বিশ্ব ভালবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর তীরেও জমবে তরুণ-তরুণীদের ভীড়।

‘আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল’ এমন ভাবনায় কেটেছে যেসব মানব-মানবীর, তাদের মনের না-বলা কথা প্রস্ফুটিত হবে এই দিনটিতে। তবে তরুণ-তরুণী শুধু নয়, নানা বয়সের মানুষের ভালবাসার বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশের আনুষ্ঠানিক দিন আজ।

এই ভালবাসা যেমন মা-বাবার প্রতি সন্তানের, তেমনি মানুষে মানুষে ভালবাসাবাসির দিনও। আজকের বিশ্ব ভালবাসা দিবসে স্বচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, সব রকমের সংঘর্ষের বদলে ভালবাসার বাণী, সংঘাতের বদলে প্রেমের বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দিতে সচেষ্ট থাকবে প্রতিটি মানুষ।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, খ্রিষ্টান পাদরি ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই ফেব্রুয়ারি খ্রিষ্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে মৃর্ত্যুদন্ড দেন। মৃর্ত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেন্টাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লিখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেন্টাইন’।

সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃর্ত্যুর দিনটিকে ’ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে পালন করা শুরু করেন। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃর্ত্যুদন্ডে দন্ডিত সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে ভালবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

একই ঘটনা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে আবার কিছুটা ভিন্ন মতও আছে। তা হলো খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচারের অভিযোগে রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস পাদরি ও চিকিৎসক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনসকে বন্দি করেন। কারণ, তখন রোমান সাম্রাজ্যে খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। বন্দি অবস্থায় তিনি জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টিহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন।

এতে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের জনপ্রিয়তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজা তাকে মৃর্ত্যুদন্ড দেন। সেই দিন ১৪ই ফেব্রুয়ারি ছিল।

অতঃপর ৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দে পোপ সেন্ট জেলাসিউও প্রথম জুলিয়াস ভ্যালেন্টাইনস স্মরণে ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস দিবস ঘোষণা করেন।

পূর্বোক্ত ইতিহাসে বলা হচ্ছে, দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে রয়েছে আরও একটি কারণ।

সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুর আগে প্রতি বছর রোমানরা ১৪ই ফেব্রুয়ারি পালন করত ‘জুনো’ উৎসব। রোমান পুরানের বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনোর নামানুসারে এর নামকরণ। এই দিন অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে তার নাচের সঙ্গীকে বেছে নিত।

৪০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীতে পরিণত হয়, তখন ‘জুনো’ উৎসব আর সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগের দিনটিকে একই সূত্রে গেঁথে ১৪ই ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। কালক্রমে এটি সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।