মস্তফা উদ্দিন,বড়লেখাঃ প্রায় সারারাতের টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে বড়লেখা পৌরশহরের বেশিরভাগ এলাকা পানিতে সয়লাব হয়ে যাওয়ায় চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। শহরের অনেক এলাকার দোকানপাট ও ব্যাবসায়ীদের গোদামে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে রোববার ভোরে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন পৌরমেয়র আবু ইমাম মো. কামরান চৌধুরী।
গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত শুরু হলেও, রাত ১২টার দিকে তুমুল বৃষ্টি নামে এবং যা স্থায়ী হয় প্রায় ৬ ঘন্টা। বৃষ্টির পানি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পৌর শহরের ভিবিন্ন এলাকা প্রাবিত হয়।
সরজমিনে দেখা গেছে, পৌর শহরের উত্তর চৌমুহনীর আশপাশ এলাকা সহ কলেজ রোডের পার্শবর্ত্তী কলোনী,হাটবন্দ এলাকা, থানা ও হাসপাতাল, উপজেলা পরিষদ,পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশন, ফায়ার সার্ভিসের সামনের সড়ক ও নারী শিক্ষা একাডেমি পানিতে তলিয়ে গেছে। দোকান গুলোতেও জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। এসব স্থানে পানি ওঠায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে যাতাযাত কারিদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে শহরের পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা থাকলেও নেমে যেতে পারছে না বৃষ্টির পানি। নিচু রাস্তার কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে।অনেক এলাকায় দোকানপাট ও ব্যাবসায়ীদের গোদামে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে দূর্ভোগে পড়েছেন ব্যাবসায়ী ও যাতায়াত কারি।
এ বিষয়ে পৌরমেয়র আবু ইমাম মো. কামরান চৌধুরী মুঠোফোনে জানান, টানা প্রায় ১২ ঘন্টার ভারিবৃষ্টিপাতের কারণে সবগুলো খাল এবং ছড়া অভারফ্লো হয়ে এই অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।ষাটমা ছড়া অভারফ্লো হয়ে সরকারী কলেজ এলাকায় এবং নিকড়ীছড়া অভারফ্লো হয়ে নারীশিক্ষা কলেজ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দুটি ছড়াতেই পর্যাপ্ত পরিমান খনন কাজ করা হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। এছাড়াও গার্লসস্কুল সংলগ্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ঠেকাতে বেদখল হওয়া খাল পুনরুদ্ধার করার জন্য পরিবেশমন্ত্রী, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এছাড়াও পৌর এলাকার জনসাধারনকে স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে আরো সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
Sylhetnewsbd Online News Paper