মস্তফা উদ্দিন,বড়লেখাঃঃ শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় অশ্রুসিক্ত নয়নে অগণিত নেতাকর্মী চিরবিদায় জানালো নিরঅহংকারী সদালাপী প্রিয়নেতা মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, প্রবীন রাজনীতিবীদ, শিক্ষানূরাগী আনোয়ার উদ্দিনকে।
শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় বড়লেখা পৌরসভার পাখিয়ালা ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। দলের দুঃসময়ের এই কাণ্ডারিকে বিদায় ও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে নেতাকর্মী ও মানুষের ঢল নামে। প্রিয় নেতাকে তারা শেষ বিদায় জানিয়েছেন অশ্রু ও ভালোবাসায়।
জানাজাপূর্ব আলোচনায় স্মৃতিচারণ করেন, বড়লেখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.শামীম আল ইমরান,সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর, পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিন,উপজেলা স্হাস্ত্য কর্মকর্তা ডা.রত্নদিপ বিশ্বাস, থানার অফিসার ইনচার্য জাহাঙ্গীর আলম সরদার, বড়লেখা ইউপি চেয়ারম্যন এসোসিয়েশনের সভাপতি আজির উদ্দিন,উপাধ্যক্ষ একে এম হেলাল,সদর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন প্রমুখ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ার উদ্দিন গত ২৫ আগস্ট হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে সিলেট নর্থইস্ট মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এতে তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় পরিবেশমন্ত্রী মো.শাহাব উদ্দিনের নির্দেশে গত রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১২সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে বড়লেখার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে
শনিবার রাত ৯টায় তার লাশ বাড়িতে পৌঁছালে শেষবারের মতো দেখতে সেখানে ভীড় করেন দলের নেতাকর্মী এবং আত্মীয়-স্বজনসহ ভিবিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবন্দ।এসময় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের জটিলতাসহ নানা শারীরিক রুগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে, ২ মেয়ে ও আত্মীয়-স্বজনসহ অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
আনোয়ার উদ্দিন ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৭৭-৭৯ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ৭৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দীর্ঘদিন তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দলকে সুসংগঠিত করে রেখেছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন।
Sylhetnewsbd Online News Paper