মস্তফা উদ্দিন,বড়লেখা: বড়লেখায় দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্যায় বানভাসীরা সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ধীর গতিতে নামছে বন্যার পানি। সড়কগুলো থেকে পানি নেমে গেলেও গ্রামীণ রাস্তায় গুলোতে এখনো জমে আছে পানি। এ পানি নর্দমায় মিশে কালো রং ধারণ করে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ঘর থেকে পানি নেমেগেলও বাড়ির বাইরে পানি রয়েই গেছে। এ কারণে বন্যা দিয়ে শুরু হওয়া ভোগান্তি বন্যার শেষেও শেষ হয়নি। ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে নানা রুগ।
বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া, চর্ম ও পেটের পীড়াসহ পানিবাহিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ৪-৫ দিন ধরে এসব রোগে আক্রান্তরা হাসপাতালে প্রচন্ড রকম ভিড় করছেন। অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতাল ও সরেজমিনে জানা গেছে, বড়লেখায় বন্যা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়। এক মাসেরও অধিক সময় হাকালুকি হাওরপাড়ের উপজেলার বর্নি, দাসের বাজার, সুজানগর ও তালিমপুর ইউনিয়নের প্রায় শতভাগ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। গত ৪-৫ দিন ধরে ধীর গতিতে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। কিন্তু বন্যা কবলিত এলাকার ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া, পেটের পীড়াসহ পানিবাহিত নানা রুগে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ শতাধিক রোগি চিকিৎসা নিতে ভিড় জমাচ্ছেন। প্রেসক্রিপশন ও ওষুধ প্রদানে সংশ্লিষ্টদের হিমসিম খেতে হচ্ছে। গুরুতর রোগিদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এলাকা ঘুরে জানা গেছে, বন্যা কবলিত এলাকায় পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে অধিকাংশ মানুষজন বিনা চিকিৎসায় বাড়িতে সময় পার করছে। দুর্গতরা জানায় বন্যায় ভেঙ্গে নিয়েছে তাদের বসতঘর। ঘরে নেই খাবার দাবার, এখন কি দিয়ে চিকিৎসা করবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস সোমবার দুপুরে জানান, গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালের আউটডোর ও ইনডোরে রোগির সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যার পানি নামার সাথে পানিবাহিত বিভিন্ন অসুখ বিসুখের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে এখন প্রতিদিন ৫ শতাধিক রোগি চিকিৎসা নিতে আসছেন। এদের বেশিরভাগই জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া, পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে আসছেন।
Sylhetnewsbd Online News Paper