বন্ধ হচ্ছে না তীর নামক জুয়া খেলা: ধ্বংশ হচ্ছে যুবসমাজ

আহম্মদ কবির,তাহিরপুর প্রতিনিধি: শহর বন্দর গ্রামে নিয়ন্ত্রনহিন তীর নামক জুয়া খেলা। বন্ধ তু হচ্ছেই না,ধ্বংশ হচ্ছে যুবসমাজ। তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নে বিভিন্ন বাজারে প্রকাশ্যেই চলছে ভারতীয় তীর খেলা। এই সর্বনাশা ভারতীয় অনলাইন তীর কাউন্টার খেলার লোভনীয় অফার ১০ টাকায় ৭শত টাকা। এই লোভে নিশ্ব হচ্ছে উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের হাটবাজার ও বাজারের আশে পাশের গ্রাম গুলোর যুবসমাজ।

জানা যায়,উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন হাটবাজার ও বাজারের আশে পাশের গ্রাম গুলোতে প্রকাশ্যে চলছে,ভারতীয় এই ”তীর কাউন্টার ডটকম খেলা।
এই অনলাইন খেলার নামে চলছে জমজমাট জুয়ার বানিজ্য।

উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের, শ্রীপুর বাজার, নতুন বাজারসহ কয়েটটি বাজারে অনেকটা প্রকাশ্যেই চলছে এই তীর খেলা। ১০ টাকায় ৭শ টাকার লোভে যুবক থেকে বৃদ্ধা পর্যন্ত এই জুয়ার আসরে মেতে উঠেছে। জনসম্মুখে এই খেলাটি চললেও প্রশাসন থেকে জোড়ালো কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

যার ফলে, এই অনলাইন তীর খেলার চক্রটি স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যে যার মতো এই জুয়ার বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এই ভারতীয় তীর খেলা বন্ধ করতে মাঝে মধ্যে প্রশাসন হতে পদক্ষেপ নিলেও তেমন কোন সুফল মিলছে বলে মনে হচ্ছে না।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ভারতের মেঘালয়ের শিলং এলাকায় তীর কাউন্টার ডটকম অনলাইন নামে এই জুয়া খেলাটি পরিচালিত হচ্ছে। এই তীর নামক অনলাইন জুয়া খেলাটি বাংলাদেশের অনেক জুয়াড়ী, এজেন্ট হয়ে বিভিন্ন হাটবাজারে সাপোর্ট এজেন্ট তৈরী করে তাদের মাধ্যমে গ্রাম বাজারের যুবক হতে বৃদ্ধ পর্যন্ত সকল শ্রেনীর লোকদের ১০ টাকায় ৭শত টাকার লোভ দেখিয়ে এলাকার যুব সমাজকে অংশগ্রহণ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতিদিনেই বাজারের চায়েরস্টলসহ বিভিন্ন দোকানগুলোতে বসছে এই জোয়ার আসর। সর্বনিম্ন ১০ টাকার বিনিময়ে একটি নাম্বার ক্রয় করে, যার ১০টাকার তীর লাগে তার জন্য ৭শত টাকা। কিন্তু যার তীর লাগে তার টাকা সংগ্রহ করার জন্য দূরে কোথাও যেতে হয় না।

নির্ধারিত নাম্বারে তীর লাগার সঙ্গে সঙ্গেই জুয়াড়ী এজেন্টরা টাকা দিয়ে দিচ্ছে এবং তার শতকরা হিসাব মতে কমিশন নিচ্ছেন হাট বাজারের ব্যাবসায়ি ও যুবসমাজ। এই তীর খেলা নামক জুয়া খেলাটি ভারতের শিলং শহরে সপ্তাহে ৬ দিন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ সময়ে সাড়ে ৪টা, এবং সাড়ে ৫টায় এই তীর খেলাটি চলে। এজেন্টরা সকাল থেকে সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে শুরু করে সর্ব উচ্চ গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী টিকেট কেটে অপেক্ষা করতে থাকে কাংখিত লোভের আসায়। গড়ির কাঠা সাড়ে চাঁরটায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই অনলাইনে একটি তীর সংখ্যা প্রকাশীত হয়। যার সংখ্যাটি প্রকাশীত হয় সে সর্বনিম্ন ১০টাকায় ৭শত টাকা পেয়ে থাকে। আর বাকীরা এই ভাবেই ফিরে যাচ্ছে খালি হাতে। কিন্তু লোভের আসায় প্রতিদিনই আসছে এই তীর নামক জুয়া খেলায়।

এই তীর নামক জুয়া খেলায় দিনমজুর, ট্রলি ড্রাইভার, কয়লা শ্রমিক, বাজারের ব্যবসায়ীসহ এলাকার স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে সর্বস্ত হারাতে চলছে। স্কুল ও কলেজ পড়ুয়ারা সু শিক্ষা হতে বঞ্চিত,কেউ আবার টেলাগাড়ি বিক্রয়,কেউ আবার ঋনের বুঝা মাতায় নিয়ে অন্যত্র চলে যেথে হচ্ছে।

উপজেলার সীমান্তবর্তী বালিয়াঘাট নতুন বাজার, বড়ছড়া জয় বাংলা বাজার, শ্রীপুর বাজার, চারাগাও বাজার, কলাগাও বাজার, বাগলী বাজার,ড্রাম্পের বাজার একতা বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ও আশে পাশের গ্রামে গুলোতে অবাধে চলছে এই তীর নামক জুয়া খেলা।

শ্রীপুর বাজারের তীর নামক জুয়া খেলার টিকেট বিক্রেতা জানান সর্বনিম্ন, ১০ টাকায় ৭শত টাকার আশায় এলাকার যুবসমাজ ডিজিটাল প্রতারনার খপ্পরে পড়ে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ফসল হারানো সাধারন মানুষগুলো প্রতারিত হচ্ছে।

এজেন্টরা ১-৯৯ পর্যন্ত নাম্বার বিক্রয় করে বিভিন্ন মূল্যে। যত মূল্যে টিকেট বিক্রয় হবে তার ৭০ গুণ লাভ দেয়া হয় বিজয়ীদের। অর্থাৎ ১০ টাকায় ৭শ টাকা। একই নম্বর একাধিক লোকও কিনতে পারেন। সবাই কেনা দামের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি টাকা পাবেন। নির্ধারীত সময়ে জুয়ারীদের তথ্য মতে খেলাটি টার্চ মোবাইলে গুটি চালতে হয়। ১হইতে ৯৯পর্যন্ত নাম্বার থাকে যে যার মত নাম্বার ক্রয় করে চাহিদা অনুযায়ী। যার নাম্বার বিজয়ী হয় সেই সর্বনিম্ন ১০টাকায় ৭শত টাকা পেয়ে থাকেন।
এই খেলার ফলাফল ঘোষণা করা হয় প্রতিদিন বিকাল সাড়ে ৪ টায় এবং সাড়ে ৫ টায়।

শ্রীপুর বাজার বনিক সমিতির সভাপতি মতিয়ুর রহমান বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির এই ডিজিটাল যুগে এইসব অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান ডিজিটাল পদ্ধতির অনলাইন তীর খেলার মাধ্যমে এলাকার খেটে খাওয়া হতদরিদ্র ও স্কুল পড়ুয়াদের টাকাগুলো নিরবেই চলে যাচ্ছে ভারতে। যাহা এলাকার সাধারন মানুষগুলা লোভের কারনে বুঝতে পাড়ছে না। এ ব্যাপারে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।

এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর জানান, এই চক্রটিকে ধরা মহা মুশকিল,কিছু দিন পুর্বে কয়েকজন কে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে আমাদের পক্ষ হতে কড়া নজরদারী রয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:-