মস্তফা উদ্দিন,সিলট নিউজ বিডি: বড়লেখা উপজেলায় চান্দগ্রাম আনোয়ারুল উলুম ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার বার্ষিক জলসার প্রস্তুতি সভা চলাকালীন সময় হামলা ও ভাংচুর করা হয়েছে। শনিবার (২৭জানুয়ারি) সকালে উপাধ্যক্ষের কার্যালয়ে ৬০তম বার্ষিক জলসা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা চলছিল। এতে মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা উপাধ্যক্ষের কক্ষের আসবাবপত্র ভাংচুর ও ফাইল তছনছ করে। এ ঘটনায় দুপক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সরজমিনে জানাযায়, ২৯ জানুয়ারি মাদ্রাসার ৬০তম বার্ষিক জলসা উপলক্ষে শনিবার সকালে উপাধ্যক্ষের কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভা চলছিল। এ সময় কয়েক ব্যক্তি অতর্কিতভাবে কক্ষে ঢুকে উপাধ্যক্ষ ওহীদুজ্জামান চৌধুরী উপর হামলা করেও আসবাবপত্র ও ফাইলপত্র তছন ও ভাংচুর করতে থাকে। এরপর মাদরাসা ক্যাম্পাস এলাকার দুপক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ঘটনা ঘটে। এতে উপাধ্যক্ষ সহ, আরবি প্রভাষক আছাব উদ্দিন, শিক্ষক আমিনুল ইসলামসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১০ ব্যক্তি আহত হন।
গভর্নিং বডির সভাপতি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ময়নুল হক সিলেট নিউজ বিডিকে জানান, তিনি মাদ্রাসায় ছিলেন না, তবে শুনেছেন সকালে জলসার প্রস্তুতি সভায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন ও মাদ্রাসা থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে অতর্কিতভাবে লোক নিয়ে কক্ষে ঢুকে ভাংচুর ও মারধর করেছেন। এতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ (উপাধ্যক্ষ)দুইজন শিক্ষক ছাড়াও বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হন। ঘটনার খবর পেয়ে তিনি মাদরাসায় গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ (উপাধ্যক্ষ) ওহীদুজ্জামান চৌধুরীর বলেন, সকালে জলসার প্রস্তুতি সভা ছিল আমি সকলকে চিটি দিয়েছি, আমার অফিস রুমে সাবেক চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন,হাজি ইছমাইল আলী,মাওঃ নুরুল ইসলাম ও মাওঃ শিহাব উদ্দিন সহ বসাছিলাম, প্রস্তুতি সভার সদস্য কয়েকজন অাসতে বিলম্ব হচ্ছিল, তাড়াতাড়ি আসতে আমি তাদের কে ফোন করি, হঠাৎ বাহির শুুনতে পাই বাহিরে অধ্যক্ষ মোস্তাক আহমদ চৌধুরীকে আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে জবরুল বলছে আপনি এখানে কেন, আপনার রুমে জান বলেই সাবেক চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিনের পাশ দিয়ে এসে আমার উপর তারা হামলা চালায়। আমার অফিসের টেবিলের উপরে তাকা মাদ্রাসার জরুরি কাগজ পত্র ও তছনছ করে আসবা পত্র ভাংচুর করে, আমি সহ আমার শিক্ষক আছাব উদ্দিন, শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সহ কয়েক জন ছাত্র আহত হই।
সাবেক চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিনের সাথে সিলেট নিউজ বিডি থেকে মুটো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মাদ্রাসার জলসা কমিটির সদস্য হিসেবে উপাধ্যক্ষ ওহীদুজ্জামান চৌধুরী চিঠি দিয়েছেন তাই আমি যথা সময়ে মাদ্রাসায় যাই। আমি কেন হামলার নেতৃত্ব দেব। বরং আমি হামলাকারীদের হাত থেকে উপাধ্যক্ষকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজেও আহত হয়েছি। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় গ্রামের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
কেবা কারা হামলা করেছে জানতে চাওয়া হলে সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, আমি ও উপাধ্যক্ষ ওহীদুজ্জামান চৌধুরী সহ ওয়াজ কমিটির কয়েক জন উপাধ্যক্ষের রুমে ছিলাম বাহিরে অধ্যক্ষ মোস্তাক আহমদ চৌধুরী,কয়েক জন ছাত্র ও এলাকার কিছু লোক ছিল হঠাৎ করে মাদ্রাসার শিক্ষ ও অধ্যক্ষ মোস্তাক আহমদ চৌধুরী সাথে তাকা লোকজন উত্তেজিত অবস্থায় কথা কাটা কাটি করে আমি তাদের কে থামানুর চেষ্টা করি, উভয় কে শান্ত করতে গিয়ে আমি আঘাত প্রাপ্ত হই,উপাধ্যক্ষ ও কয়েক জন আহত হন। আমি এলাকার লোকজনকে শান্ত করার চেষ্টা করি।
পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) দেব দুলাল ধর জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়েই পুলিশ অনেক চেষ্টা করে বিকালের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে একজন পুলিশ অফিসার আহত হয়েছেন বলে জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ইট পাটকেলের আঘাতে এসআই দেবাশীষ সূত্রধরও আহত হন।
সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
Sylhetnewsbd Online News Paper