সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: ছাতকে আন্তঃজেলা মোটর সাইকেল চোর সিন্ডিকেটের গডফাদার বাদশা মিয়াকে অবশেষে পুলিশের খাঁচায় বন্দি করা হয়েছে। পুলিশ বুধবার তার ১০দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে একটি আবেদন করা হয়। বাদশা মিয়া বিশ্বনাথের সিঙ্গেরকাছ শেখেরগঁও গ্রামের মৃত আব্দুল মালিকের পুত্র। এনিয়ে পুলিশ মোটর সাইকেল চোর সিন্ডিকেটের ৩সদস্যকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করলেও অন্যান্যরা রয়ে গেছে ধঁরা-ছোয়ার বাইরে।
জানা যায়, ৩নভেম্বর উপজেলার ছৈলা-আফজালাবাদ ইউপির বাগইন এলাকায় বটেরখাল নদীর পারে দোলারবাজার ইউপির জটি গ্রামের আব্দুল মোমিনের ৩০অক্টোবর বাড়ি থেকে চুরি হওয়া মোটর সাইকেল পাওয়া যায়। এটি উদ্ধারকালে পুলিশী তদন্তে বেরিয়ে পড়ে সাইকেল চুরির চাঞ্চল্যকর তথ্য। এরই ধারাবাহিকতায় আন্তঃজেলা মোটর সাইকেল চোর চক্রের গডফাদার বাদশা মিয়া এখন জেল হাজতে রয়েছে।
জানা গেছে, ৩০অক্টোবর আব্দুল মোমিনের, ৩১অক্টোবর লক্ষীপাশার আছকন্দর আলীর পুত্র আবু জাহিদেরও আগের দিন মঈনপুরের নজরুল ইসলামের পুত্র মোহাম্মদ আলীর মোটর সাইকেল চুরি হয়। চুরির সাইকেলগুলো বারগোপির চেরাগ আলীর পুত্র লায়েক মিয়ার বাড়িতে রেখে এখান থেকে সুযোগ মতো দোলারবাজার-বাগইন-বিনন্দপুর-দশঘর-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছিল। ২নভম্বের রাতে লায়েক মিয়ার বাড়ি থেকে এ রোডে আব্দুল মোমিনের সাইকেলটি পাচারের সময় বাগইনের কাছে পৌছলে বটেরখালে মাছ ধরার লোকজন তাদেরকে সনাক্ত করে আটকের চেষ্ঠা করলে চোরচক্র সাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এটি উদ্ধারের সময় ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বাগইনের মখদ্দুছ আলীর পুত্র রিপনও সরিষপুরের ছাত্তার আলীর পুত্র আবুল লেইছকে গ্রেফতার করেন। পরে বাদশা মিয়াকে আটকের চেষ্ঠা ব্যর্থ হলে বিশ্বনাথের দৌলতপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবারক আলীসহ এলাকাবাসি ৭নভেম্বর সিঙ্গেরকাছ বাজারে মোটর সাইকেলসহ চোরকে পুলিশে সোপর্দ করার আশ্বাস দেন। কিন্তু ৭নভেম্বর সাবেক চেয়ারম্যান আবারক আলী, সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম, আবারক মিয়া ও সিঙ্গেরকাছ বাজার কমিটির সেক্রেটারী আব্দুল আজিজসহ এলাকাবাসির সাথে দোলারবাজারের হাজি আসিক মিয়া, গিয়াস উদ্দিন ও আবুল কালাম মেম্বারসহ লোকজন সেখানে যান। কিন্তু বাদশা মিয়া সুনামগঞ্জ জেল হাজতে থাকায় ১১নভেম্বর সাইকেল ফেরতের পরবর্তি তারিখ ধার্য্য করেন। গ্রেফতারকৃত ৩জন আসামির বিরুদ্ধে থানায় মোটর সাইকেল চুরির পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এব্যাপারে মামলার তদন্তকারি অফিসার সাব-ইন্সপেক্টর সফিকুল ইসলাম জানান, চোর সিন্ডিকেটের সদস্যদের গ্রেফতারে তিনি সাড়াশি অভিযান চালাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গডফাদার বাদশা মিয়া আদালতে আত্মসমর্পন করে। এছাড়া বাগইন, বারগোপিসহ বিভিন্ন গ্রামের আরো একাধিক লোকের উপর কড়া নজরদারি চলছে এবং আদালতে বাদশা মিয়ার ১০দিনের রিমান্ড আবেদন চাওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
Sylhetnewsbd Online News Paper