টাংগুয়ার হাওরে সেচ দিয়ে মাছ ধরার অভিযোগ

আহাম্মদ কবির:তাহিরপুর প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জ জেলার টাংগুয়ার হাওরে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে রৌহা বিলের অংশ বিশেষ পুরান ভাঘের ডুবাতে সেচ দিয়ে মৎস্য আহরনের একপর্যায়ে কমিউনিটি গার্ডের বাঁধা।

জানা যায়, অবৈধ মৎস্য আহরণকারীরা সারা রাত ইঞ্জিল চালিয়ে পাঁনি সেচ দিয়ে বিল শুকিয়ে কিছু মাছ ধরে নিয়ে যায়,এভাবে মাছ ধরলে দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হওয়ায় কমে যাচ্ছে
মাছের উৎপাদন। টাংগুয়ার হাওর দায়িত্বরত এক্সিউটিব ম্যাজিষ্ট্রেট বিভিন্ন জলমহালে কড়া নজরদারী থাকলেও
রোধ হচ্ছে না জলমহাল সেচ দিয়ে শুকিয়ে মাছ ধরা।

কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের তথ্যমতে জানা যায়, টাংগুয়ার হাওরে ছোট-বড় মোট ৪০টি বিল পার্মিটে মৎস্য আহরণের উপযোগি রয়েছে তার মধ্যে ২৯টি বিল পার্মিটের আওতায় এনে মৎস্য আহরণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব জলমহাল থেকে প্রায় ২৩০০০০লক্ষ টাকা সরকার ও সংগঠনের আয় হয়। তার মধ্যে সরকারী কোষাগারে ২৪% এবং টাংগুয়ার হাওর কেন্দ্রিয় কোষাগারে ৭৬% টাকা জমা হয়। সরকারী নিতিমালার আলোকে ইংরেজি জানুয়ারীর ১ম তারিখ হইতে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন শর্তে সাপেক্ষে ৩ মাসের জন্য মাছ ধরার অনুমোদন দেওয়া হয়। ইংরেজি জানুয়ারী মাসের ১ম তারিখ হইতে ৩১শে মার্চ টাংগুয়ার হাওর সোসাইটির মৎস্যজিবী পার্মিট গ্রহীতা সদস্য মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ৩ ফুট পর্যন্ত পানি রেখে মাছ ধরার বিধান রয়েছে।
এছাড়াও ইজারা শর্তেও ১৭ নং অনুচ্ছেদে পানি শুকিয়ে মাছ ধরা যাবে না বলে শর্ত রয়েছে। কিন্তু হাওরের রৌহার বিলের অংশ বিশেষ পুরান বাগের ডুবায় সরকারী রাজস্ব ফাকি দিয়ে সরকারি শর্ত মৎস্য সংরক্ষণ আইন অমান্য করে বিলের পানি সেচ দিয়ে শুকিয়ে মাছ ধরার হয়। খবর পেয়ে সেই সময় টাংগুয়ার হাওর কমিউনিটি গার্ডের সদস্যরা ঘঠনা স্থলে পৌছে।

কমিউনিটি গার্ড সুপারভাইজার গোলেনুরের তথ্যমতে জানা যায়, টাংগুয়ার হাওর কেন্দ্রিয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ খররুল আলমের নির্দেশ পেয়ে ঘঠনা স্থলে পৌছলেই মৎস্য আহরণকারীদের সাথে হালকা সংঘর্ষ ঘঠে। এতে কমিউনিটি গার্ডের সদস্য আফিস আলী টেলা ধাক্ষা হয় এতে আফিস আলী হালকা আঘাত পেয়ে পিছু হটে। এক পর্যায়ে মৎস্য আহরণকারীরা কিছু মাছ ও ইঞ্জিন নিয়ে পালিয়ে যায় এবং কমিউনিটি গার্ডের সদস্যরা একটি পাঁনি সেচ দেওয়ার পাইব ও একটি মাছ পরিবহনের ক্যারেড কয়েক কেজি মাছ জব্দ করে এবং পাঁনি ডুকিয়ে বিল পাঁনিতে ভরাট করে চলে আসে।

স্থানিয় সুশীল সমাজ বলেন, এভাবে বিল শুকিয়ে মাছ ধরার ফলে বিলের নিচে থাকা কই, মাগুর, শিং, বাইম, পুঁটি,টেংরাসহ দেশীয় প্রজাতির ছোট-বড়
মা-মাছ ও মাছের ডিম নষ্ট হবে। এতে
মাছের প্রজনন এবং উৎপাদনে এর বিরূপ
প্রভাব রয়েছে।

এলাকাবাসীর তথ্যমতে জানা যায়, মন্দিয়াতা গ্রামের ও শ্রীয়ার গাও গ্রামের কিছু অসাধু মৎস্য আহরণকারীসহ স্থানিয় কমিউনিটির একাদিক নেতৃবৃন্দ এই ঘঠনার সাথে সম্পৃক্ত।
টাংগুয়ার হাওর দায়িত্বরত এক্সিউটিব ম্যাজিষ্ট্রেট বলেন, কমিউনিটি গার্ডের সদস্যরা আমাকে বলেছে পুরানবাগের ডুবা নামক একটি বিল সেচ দিয়ে শুকিয়ে ছিল মাছ ধরার এক পর্যায়ে কমিউনিটি সদস্যরা বাঁধা দেয় তবে জেলেদের সাথে কোন সংঘর্ষ হয়নি।