তাহিরপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর, ধর্মপাশা উপজেলার মেঘালয়ের কুলঘেষে অবস্থানরত টাংগুয়ার হাওর। এই বিশাল টাংগুয়ার হাওড়ের উপড় নির্ভরশীল জনগোষ্টির জীবনমান উন্নয়ন টাংগুয়ার হাওড়ের জীববৈচিত্র সংরক্ষনের সার্থে হাওড় পাড়ের জনগনের সমন্বয়ে একটি সংগঠন গঠন করা হয়েছে যাহা গ্রাম, ইউনিয়ন, ও কেন্দ্রিয় পর্যায়ে সম্পর্কিত। উক্ত সংগঠন দীর্ঘ দিন ধরেই প্রশাসনের সাথে সহব্যাবস্থাপনার মাধ্যমে হাওড় ব্যাবস্থাপনার কাজ করে আসছে। যেমন টাংগুয়ার হাওড়ের উন্নয়ন টেকসই ব্যাবস্থাপনা,সংগঠনের লক্ষ ও উদ্যেশ্য বাস্তবায়ন,টাংগুয়ার হাওড়ের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্টির জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের। সে ক্ষেত্রে সুনামগঞ্জ জেলা পর্যায়ে টাংগুয়ার হাওর ব্যাবস্থাপনা কমিটি নামক একটি কমিটি রয়েছে- যাহার সভাপতি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক এবং পদাধিকার বলে উক্ত কমিটিতে টাংগুয়ার হাওড় কেন্দ্রীয় সহব্যাবস্থাপনা কমিটির তিন জন সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন, সভাপতি,সাধারন সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ। যে কমিটিতে টাংগুয়ার হাওরের নীতি নির্ধারন ও ব্যাবস্থাপনার যাবতীয় কর্মকান্ডের সিদ্ধান্ত করা হয়। সেই কমিটির সদস্য ও টাংগুয়ার হাওর সহব্যাবস্থাপনা কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ জনান খসরুল আলম(৩৫) পিতা মৃত মুক্তার আলী এবং তার সাথে থাকা তিন জন সদস্য হলেন -জুলহাস মিয়া (৩৬) পিতা মৃত আব্দুল আজিজ, বিলাল মিয়া(৩০) ও সবুজ মিয়া(৩৮) পিতা মৃত মুক্তার আলী। তারা খসরুল আলমের নেতৃত্বে একত্র হয়ে বাঘমরা বিলের ১,৩৬,০০০/- টাকা যার মধ্যে টাংগুয়ার হাওর সংগঠনের কেন্দ্রীয় তহবীলের বাৎসরীক আয় ৭৬% হিসাবে ১,০৩,৩৬০/-টাকা এবং টাংগুয়ার হাওর বাঘমারা বিল হতে সরকারী বাৎসরীক রাজস্ব ২৪% হিসাবে ৩২,৬৪০/-টাকা ফাকি দিয়ে,বহীরাগত অবৈধ মৎস্য আহরণকারী দিয়ে মাছ ধরিয়ে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, টাংগুয়ার হাওর দায়িত্বরত এক্সিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেটসহ কমিউনিটির প্রতারনা করে বাঘমারা বিলের নির্ধারিত টাকা জমা করিয়াছি বলিয়া লক্ষ লক্ষ টাকার মৎস্য সম্পদ লুটে নিয়ে গেছেন বলে তাদের অভিযোগ।
স্থানীয় সুশীল সমাজের লোকজন বলেন, সংগঠনের সদস্যরা তাদের নির্বাচিত করেছে সরকারের সাথে সহব্যাবস্থাপনার মাধ্যমে হাওর ও সংগঠনের উন্নয়ন করার জন্য এখন তারাই যদি সংগঠনের বাৎসরীক আয় ও সরকারী রাজস্ব ফাকি দিয়ে সরকার কে বৃদ্ধাঙুলী দেখিয়ে সরকারী সম্পদ লুটে নিয়ে যায়। তাহলে কী ভাবে সংগঠন ও হাওরের ব্যাবস্থাপনার প্রতি সাধারন সদস্যদের আস্থা থাকবে?
স্থানীয় একাদিক মৎস্যজীবীরা বলেন- আমরা উক্ত বিলের পারমিট নিতে এবং বিলের নির্ধারিত টাকা জমা দিতে চেয়েছিলাম, এমন কী টাংগুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ খসরুল আলমের কাছে উল্লেখিত বিল সম্পর্কে জানতে চাইলে উনি বলেন আমরা বিলের পারমিটের টাকা জমা দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু এখন যা জানা যায় টাংগুয়ার হাওর বাঘমারা বিলের ১,৩৬,০০০/- টাকা সংগঠন ও সরকারের কোন কোষাগারে জমা হয়েছে তার কোন সন্ধান মিলেনি। টাকা জমা না দিয়েই স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সম্মুখে প্রকাশ্যে উল্লেখিত বিল হতে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ লুটে নিয়ে যায়।
এমতাবস্থায় এলাকাবাসী টাংগুয়ার হাওর দায়িত্বরত এক্সিউটিব ম্যাজিষ্ট্রেট এর বরাবর ০১/০৪/২০১৮ইং লিখিত অভিযোগ করেন এবং তার অনুলিপি প্রদান করেন জেলা প্রশাসক সুনামগঞ্জ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহিরপুর উপজেলা ও সভাপতি টাংগুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সহব্যাবস্থাপনা কমিটি।
টাংগুয়ার হাওর দায়িত্বরত এক্সিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট বলেন, আমি উক্ত বিলে গিয়েছিলাম তাদের সাথে কথা বললে তারা বলেন উল্লেখিত বিলের নির্ধারিত টাকা জমা করিয়াছেন। এখন কি হয়েছে তা আমার জানা নেই।
টাংগুয়ার হাওর সমাজ ভিত্তিক সহব্যাবস্থাপনা সোসাইটির উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন সহ ব্যাবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জনাব আব্দুস সাত্তার বলেন, আমাদের কাছেও খসরুল আলম সহ তার সাথে থাকা লোকজন বলেছে তারা বিলের নির্ধারিত টাকা জমা করিয়াছেন কিন্তু তারা সংঘঠন ও সরকারের কোন কোষাগারে টাকা জমা করিয়াছেন তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। সংগঠনের যে কোষাগারে টাকা জমা হবে খসরুল আলম সেই কোষাগারের কোষাধ্যক্ষ, উনার কাছ হতে এমনটা আমরা আসা করিনি।
টাংগুয়ার হাওড় প্রকল্প উন্নয়ন কর্মী ওয়াহিদুজ্জামান বলেন- টাংগুয়ার হাওর বাঘমারা বিলটির টাকা জমা হয়নি,আর টাকা জমা না করে বিলে মৎস্য আহরণ করা অন্যায়।
Sylhetnewsbd Online News Paper