আহম্মদ কবির,তাহিরপুর প্রতিনিধি: বছর ব্যাপী প্রতীক্ষার পালা শেষে প্রতি বছরের ন্যায় শুরু হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে গত (১৫ই অক্টোবর) সোমবার থেকে শুরু হলো এ উৎসব। প্রতি বছরই এই উৎসবমুখর দিনটির অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন হিন্দু ধর্মীয়রা। ষষ্টীপূজার মধ্যদিয়ে দেবীর আরাধনা শুরু করেছেন ভক্তবৃন্দ। আগামী ১৯ অক্টোবর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গাপূজা।
তাহিরপুর এ বছর ২৯টি মণ্ডপে পূজা উদযাপিত হচ্ছে। শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের কয়েকটি পূজামন্ড ঘুরতে গিয়ে দেখা যায় দৃষ্টিনন্দন ভাবে দেবীকে বরণ ও বিসর্জনের ব্যবস্থা করেছেন পুজা উৎযাপন কারি সংশ্লিষ্টরা। ভক্তবৃন্দগন দেবীকে ভিন্ন ভিন্ন রঙে সাজিয়ে আকর্ষণীয় করে অর্ঘ্য দেওয়ার জন্য প্রস্তত করেছেন। এই পুজা মণ্ডপ গুলোকে সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়া জন্য সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জুড়ালো ভুমিকা রয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় উৎসবকে ঘিরে সারা দেশের ন্যায় তাহিরপুর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। আনসার ও পুলিশের পাশাপাশি প্রয়োজনে অন্যান্য নিয়মিত বাহিনীও মাঠে আছেন। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদদের ইতিহাস সুত্রে এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাথে আলাপচারীকার মধ্যে জানা যায় লংকার রাজা রাবণকে বধ করে দেবী সীতাকে উদ্ধার করতে শরৎকালে দেবীকে আহ্বান করেছিলেন রাজা রামচন্দ্র। সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করে প্রতি শরতেই মর্তে আসেন দেবী দুর্গা। পাঁচদিনের উৎসব আনন্দ শেষে দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় নেন মহামায়া দেবী দুর্গা।
পাঁচদিনের উৎসব যথাক্রমে দুর্গাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী নামে পরিচিত। আনন্দ উদযাপন শেষে দশমীতে দেবীকে চোখের জলে বিদায় দেন ভক্তরা। উৎসবের দিনগুলোতে মন্ডপে নৃত্য, ধর্মীয় সঙ্গীত, ভোগ ও লুট বিতরণসহ নানা আচারাদি থাকে। প্রয়াতের উদ্দেশ্যে স্মৃতিতর্পনও করেন স্বজনরা।
অন্যদিকে শারদীয় দুর্গা পূজাকে ঘিরে তাহিরপুর উপজেলায় গতকাল সোমবার উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি, উনি উপজেলার প্রতিটি পুজা মন্ডপে নগদ ১০হাজার টাকা করে ২৯টি পূজা মন্ডপে মোট২লক্ষ ৯০হাজার টাকা ব্যক্তিগত অনুদান বিতরন করেন। এ সময় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, “ধর্ম যার যার, আনন্দ সবার”। আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের সরকার। আমাদের সরকার সকল ধর্ম বর্ণের মানুষের নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৮সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পূর্বে তাহিরপুর উপজেলায় ১৭টি পূজামন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্টিত হতো। বর্তমানে তাহিরপুর উপজেলায় ২৯টি পূজা মন্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্টিত হচ্ছে। তিনি সকলকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এ উৎসবে সর্বাত্নক সহযোগীতা করার আহ্বান জানান।
Sylhetnewsbd Online News Paper