সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চাঞ্চল্যকর শিশু ইমন হত্যা মামলায় মরদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জন) ডা. বিশ্বজিত গোলদার সিলেটের আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মঙ্গলবার সিলেটের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রেজাউল করিমের আদালতে তিনি সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য প্রদানকালে ডা. বিশ্বজিত গোলদার উল্লেখ করেন, ‘তিনি ২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল দুপুরে লাশের আংশিক অংশের ময়না তদন্ত করেন। মেডিকেল বোর্ডে তারা তিনজন ছিলেন। মাথার খুলি, হাড়, দাতসহ বিভিন্ন অংশের ময়না তদন্ত করেন।’
আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খোকা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ডা. বিশ্বজিত ইমনের ময়না তদন্তের বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। একই আদালতে আগামী ১৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাক্ষ্য প্রদানের কথা রয়েছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত ১২ নভেম্বর হবিগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শহীদুল আমিন ও সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যাম কান্ত সিনহা সাক্ষ্য প্রদান করেন।
ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের বাতিরকান্দি গ্রামের সৌদি প্রবাসী জহুর আলীর ছেলে ও লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানার কমিউনিটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেনীর ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান ইমনকে ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ অপহরণের পর দাবিকৃত মুক্তিপনের টাকা না পাওয়ায় হত্যা করে অপহরণকারীরা।
৮ এপ্রিল মোবাইল ট্যাকিংয়ের মাধ্যমে সিলেটের কদমতলী বাসষ্ট্যান্ড থেকে শিশু ইমনের হত্যাকারী ঘাতক ইমাম সুয়েবুর রহমান সুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি, বিষের বোতল ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করে। এমনকি বাতিরকান্দি হাওর থেকে ইমনের মাথার খুলি ও হাতের হাড় উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেফতার করে জড়িতদের। বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন।
প্রসঙ্গত, মামলাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নির্দেশের পর সিলেটের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি ট্রাইব্যুনালে উঠে। মধ্যখানে বিরতির পর গত ২ আগষ্ট থেকে আবার সাক্ষ্য গ্রহন শুরু করেন আদালত। সাক্ষ্যগ্রহন শেষের পথে।
Sylhetnewsbd Online News Paper