কারাবন্দী ও আহত নেতাকর্মীদের সাথে মিজান চৌধুরীর সাক্ষাৎ

সিলেট নিউজ বিডি ডেস্ক: সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়াাবাজার) আসনে ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে তামাশার ভোট বলে মন্তব্য করে ফলাফল প্রত্যাখান করে পুনরায় নির্বাচন দাবি করেছেন। তিনি পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে ভোটের আন্দোলনের ডাক দিয়ে বলেছেন, ধানের শীষের গণজোয়ার দেখে জনবিচ্ছিন্ন শাসকদল রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে আগের রাতেই ভোট দিয়ে নৌকাকে বিজয়ী করে রেখেছিল। পরদিন ভোট কেন্দ্রে যাওয়া ভোটারদের বাঁধা দিয়ে ভোট চুরির ফলাফল ঘোষণা করে। এ রায় গণরায় নয়, এ রায় চুরির ফল।

সোমবার সুনামগঞ্জ কারাগারে ভোটের আগে গ্রেফতার হওয়া কারাবন্দী নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ, সিলেটের হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভোটের দিন আহত নেতাকর্মীদের দেখতে গিয়ে মিজানুর রহমান চৌধুরী এসব কথা বলেন। এসময় তিনি ছাতক ও দোয়ারাবাজারবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ নির্বাচনে জাতি জিতেছে, হেরেছে আওয়ামী লীগ। ধানের শীষ বিজয়ী হয়েছে, হেরেছে শাসক দল। ভোটযুদ্ধে আসলেই বাস্তবিক অর্থে একটি যুদ্ধ হয়েছে। এ যুদ্ধে একদিকে ছিলেন নিরস্ত্র জনতা অন্যদিকে পুলিশসহ সশস্ত্র আওয়ামীলীগ ক্যাডাররা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ভোটের আগের দিন অন্তত শতাধিক নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। ভোটের দিন ভোটাধিকার রক্ষা করতে গিয়ে আরও অন্তত দেড়শতাধিক আহত হয়েছেন। আমি ভোটের অধিকার রক্ষায় নেতাকর্মী ও জনগণকে নিয়ে যুদ্ধ করেছি। এখন আন্দোলন হবে ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে।

সোমবার সকালে নির্বাচনী এলাকায় যে সকল নেতাকর্মী নানাভাবে নির্যাতিত হন তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মিজানুর রহমান চৌধুরী। দুপুরের দিকে সুনামগঞ্জ কারাগাওে বন্দি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মিজানুর রহমান চৌধৃুরীর বড় ভাই কুতুবুর রহমান চৌধুরী, ছাতক উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবু হুরায়রা সুরত, কালারুকা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল হক, দোয়ারা উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ, বোগলা ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জুয়েল, সিংচাপইড় ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, ছাতক উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আকবর আলী, সেক্রেটারি মাওলানা সৈয়দ মনসুর আহমদ, দোয়ারাবাজার উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি দেলওয়ার হোসেন, যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ছদরুল আমিন সোহাগসহ শতাধিক নেতাকর্মীর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

সোমবার রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত চরমহল্লা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত, দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি লুৎফুর রহমান, ইউপি মেম্বার ফারুক আহমদ, জুয়েল আহমদ, মানিক মিয়া, রজব আলী, জমসর আলী, ডালিম মিয়া, নাজমুল ইসলাম, আমিন আলী, আরব আলী, জলফু মিয়া, ফারুক আহমদ মেম্বার, নজরুল ইসলামসহ প্রায় শতাধিক আহত নেতাকর্মীকে দেখতে যান তিনি।

এসময় মিজানুর রহমান চৌধুরীর সাথে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও নির্বাচনে প্রধান সমন্বয়কারী ফারুক আহমদ, দোয়ারা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহজাহান মাস্টার, যুগ্ম আহবায়ক নিজাম উদ্দিন, দোয়ারা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবদুল মালিক মাস্টার, দোলারবাজার ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আবদুল গণি, পান্ডারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ, দোয়ারা সদর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবদুল বারী, মান্নারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা আজিজ, দোয়ারাবাজার উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হেলাল মিয়া, দোয়ারাবাজার উপজেলা জামায়াতের আমির হারুনুর রশিদ, বিএনপির আবু সুফিয়ান, দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এরশাদুল হক মেম্বারসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।