ছাতকে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের

ছাতক প্রতিনিধিঃ ছাতকে দিনে-দুপুরে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলার ঘটনায় ছাতক থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার রাতে আহত ব্যবসায়ী নওশাদ ইসলাম নিজুর বড় ভাই সাংবাদিক নাজমুল ইসলাম এ মামলা (নং-৩, তারিখ: ০৪/০৫/২০১৯) দায়ের করেন। মামলায় ঘটনার মূলহোতাকারী বাউসা গ্রামের ফজর আলীর পুত্র তাজ উদ্দিনসহ ১১জনকে আসামী করা হয়।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার বাউসা বাজারে নওশাদ ইসলাম নিজু (২৪) নামের এক পাথর ব্যবসায়িকে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে সুরমা নদীতে ফেলে দেয়। ব্যবসায়ী নওশাদ ইসলাম নিজু উপজেলার সদর ইউনিয়নের ব্রাক্ষণগাঁও গ্রামের আবুল হাশেমের পুত্র। গুরতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ছাতক উপজেলা হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জানা যায়, নওশাদ ইসলাম নিজু ব্যবসায়ি কাজে মোটর সাইকেল নিয়ে বাউসাবাজারে যান। বাজার মসজিদে আছরের নামায আদায় করে বেরিয়ে আসেন এবং বাড়ির উদ্দেশ্যে নিজস্ব মোটর সাইকেলটি ষ্টার্ড দেয়া মাত্রই বাউসা গ্রামের ফজর আলীর পুত্র তাজ উদ্দিন ওরফে তাজুর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসীরা তার উপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালিয়ে আহত করে মৃত ভেবে তাকে পার্শ্ববর্তী সুরমা নদীতে ফেলে যায়। কিছু সময় পর বাজারের জনৈক এক সবজী ব্যবসায়ি একজন লোককে পানিতে দেখে চিৎকার দিলে বাজারের অন্যান্য লোকজন এসে মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী আহতের ভাই, সাংবাদিক নাজমুল ইসলাম বলেন, পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে বাউসা গ্রামের ফজর আলীর পুত্র তাজ উদ্দিন ওরফে তাজু সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে ৭/৮জন মিলে তার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে মৃত ভেবে সুরমা নদীতে ফেলে যায়। পরে খবর পেয়ে তিনি ও তার আত্মীয়-স্বজন তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি আরো বলেন, নিজুর বাম হাত ভেঙ্গে গেছে, মাথা ও কানে প্রচন্ড আঘাতের চিহৃ রয়েছে। এদিকে, তরুন ব্যবসায়ী নওশাদ ইসলাম নিজুর উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে রবিবার বিকেলে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভা ব্রাক্ষণগাঁও গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। ছাতক সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার কাজী নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এলাকাবাসীর পক্ষে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, গনক্ষাই গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বি কালা মিয়া চৌধুরী, মতকিন মিয়া চৌধুরী, সাবেক ইউপি মেম্বার আজহার আলী, আশরাফুল আলম সেপিন, গ্রামের বিশিষ্ট মরুব্বি সুরুজ মিয়া, সুন্দর আলী, ইউসুফ আলী প্রমুখ। বক্তারা অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান।