এক মাছের দাম ৬০ হাজার টাকা!

নদী, হাওর ও বিল সমৃদ্ধ হবিগঞ্জ জেলার অন্যতম ঐতিহ্য হলো পইলের মাছের মেলা। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল গ্রামের শত বছরের পুরনো এই মেলায় এবার দেশীয় মাছের পসরা বসান বিক্রেতারা। পইল গ্রামে প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তিতে মাছের মেলা বসে। মাছের মেলাটি শুক্রবার রাত পেরিয়ে শনিবার ভোর পর্যন্ত চলবে। মেলায় হবিগঞ্জ ছাড়াও মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও বি-বাড়ীয়া থেকে নানা বয়সী মাছপ্রেমী লোকজনের আগমন ঘটে। তবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চেয়ে উপভোগকারী লোকজনের সংখ্যাই ছিল বেশি। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও এই পৌষমেলায় ছিল দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বোয়াল, বাঘাইড়, চিতল, গজার, বড় আইর, রুই, কার্ফু, পুঁটি, চিংড়ি, কৈ, চাপিলা, চান্দা মাছের ছড়াছড়ি ছিল বেশি। তবে লোকজন গিয়ে খুঁজতে থাকেন সবচেয়ে বড় মাছটি কত ওজনের। ১০ হাজার টাকার আশেপাশে বোয়াল ও চিতল মাছের ক্রেতা ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। মেলায় মাছের মেলা হলেও শিশুদের বিনোদনের জন্য যেমন ছিল নানা রকম খেলনা তেমনি ছিল শীতের পিঠাসহ নানা প্রকার খাবারের সমারোহ। মেলায় বিক্রি করার জন্য হবিগঞ্জ শহরের উমেদগর গ্রামের নুর মিয়া নামে এক মাছ ব্যবসায়ী ১ মণ ওজনের একটি বাঘাইড় মাছ নিয়ে আসেন বিক্রি করার জন্য। তিনি দাম হাঁকেন ৬০ হাজার টাকা। তবে এখন পর্যন্ত দাম উঠেছে ২৫ হাজার পর্যন্ত। পইল ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়ে থাকে মাছের মেলা। ইউপি চেয়ারম্যান সাহেব আলী জানান, পইল গ্রামের মাছের মেলা এলাকার একটি ঐতিহ্য। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এখানে আসেন মাছ ক্রয়-বিক্রয় করতে। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে থাকে মেহমানে ভরপুর। অনেইে মেলা থেকে ক্রয় করে আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতেও মাছ পাঠান। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভাদৈ গ্রামের আবদুল কাইয়ূম জানান, তিনি মেলা থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে একটি বোয়াল মাছ ক্রয় করেছেন। প্রতি বছরই তিনি মেলায় যান। ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার সরাইল থেকে আসা আবদুল কুদ্দুছ বিশাল মেলা দেখে মুগ্ধ। তবে তিনি কোনো মাছ ক্রয় করেননি। আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে এসে মেলা দেখতে যান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.